https://www.prothomalony.com/
6633
bangladesh
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৬:১৪
২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দিয়েছে অজ্ঞাত এক দুর্বৃত্ত। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার খাজা তানভীর জানান তাকে বুধবার ফোনে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অজ্ঞাত এক দুর্বৃত্ত। তিনি আরও বলেন, একইরকম ভাবে গত ৬ জুনও তাকে ফোনে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। মোহাম্মদপুর থানায় দায়েরকৃত জিডিতে বলা হয়, ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর ২টা ৪ মিনিটের সময় একটি নাম্বার থেকে অজ্ঞাত এক যুবক আমার ব্যক্তিগত নাম্বারে ফোন দিয়ে ‘হ্যালো’ বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে গালমন্দ করে ১৬ সেকেন্ড পর লাইন কেটে দেয়। পুনরায় একই সময়ে ফোন দিয়ে সে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সহ আমাকে অনবরত অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমাকে “টুকরো টুকরো করে গাঙ্গে ভাসিয়ে দিবে” বলে হুমকি দেয়। আমি কিছু না বলে তার বক্তব্য রেকর্ডিং করি। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি ও আমার পরিবারের মধ্যে প্রচণ্ড রকম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলায় নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগে মামলার বাদীসহ অন্যান্য লেবার ইন্সপেক্টর এবং ইন্সপেক্টর জেনারেলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানার আদালতে মামলার বাদী শ্রম পরিদর্শক তরিকুল ইসলামসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট ৫ জন লেবার ইন্সপেক্টর গ্রামীণ টেলিকমকে একটি নোটিশ দেয়। সে নোটিশে ৫ জনই স্বাক্ষর করে কিন্তু সাধারণ নিয়মানুযায়ী শুধুমাত্র পরিদর্শন টিমের সিনিয়র অফিসার নোটিশ ইস্যু করতে পারে। কিন্তু বাদী শুধুমাত্র ড. ইউনূসকে ফাঁসানোর জন্য আর চারজনের নাম টেম্পারিং করে সংযোজন করে বিবাদীকে নোটিশ পাঠিয়েছে।
বিবাদী নোটিশ জালিয়াতির বিষয়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৫ (১) (সি) অনুযায়ী বাদীসহ অন্যান্য লেবার ইন্সপেক্টর এবং ইন্সপেক্টর জেনারেলের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেন। ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালতে বলেন, নোটিশ টেম্পারিং করে তাদের সাক্ষী হিসেবে আনা হয়েছে। তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করছি। অপরদিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এই আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, সাক্ষীর জেরা চলছে। এ অবস্থায় তারা আগে একটি আবেদন দিয়েছে।
এখন আরেকটি আবেদন করছে। এই আবেদন সাক্ষী শেষে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় দিতে পারেন। কিন্তু তা না করে উনারা সময় নষ্ট করার জন্য এ আবেদন করেছেন। এই আবেদন খারিজ করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি আদেশের জন্য রাখেন।
এরপর বাদী তরিকুল ইসলামকে পঞ্চম দিনের মতো জেরা শুরু করেন ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। বুধবার জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আগামী ৩ অক্টোবর পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে গত ২২শে আগস্ট এ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করার পর তাকে জেরা করেন ড. ইউনূসের আইনজীবীরা। এরপর গত ৫, ১৩ ও ২২শে সেপ্টেম্বর সাক্ষীকে জেরা করেন ড. ইউনূসের আইনজীবী।
২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূস সহ চারজনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন। মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় ড. ইউনূস ছাড়াও গ্রামীণ টেলিকমের এমডি মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে বিবাদী করা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন