https://www.prothomalony.com/

6298

bangladesh

বাংলাদেশ

এই মাটি আমাদের, ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, বাংলাদেশের মানুষ জানে অধিকার আদায় করতে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১০:২২

২ সেপ্টেম্বর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর-ফার্মগেট অংশ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আর এই সাথে দ্বার খুললো বাংলাদেশে প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের।  

বিকাল ৩টা ৪২ মিনিটে কাওলা প্রান্তে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর মোনাজাতে অংশ নেন। উদ্বোধনের পর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর দিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাওলা প্রান্ত থেকে ফার্মগেট পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে তার সময় লাগে ১৪ মিনিট। বিকাল ৩টা ৪৪ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে দক্ষিণ কাওলা প্রান্ত থেকে ফার্মগেটের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর রওনা হয়। বিকাল ৩টা ৫৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফার্মগেট প্রান্তে এসে পৌঁছান তিনি। পরে ফার্মগেট থেকে প্রধানমন্ত্রী পুরাতন বাণিজ্যমেলা মাঠে যান। দেশের প্রথম এ উড়াল সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে আজ সকাল থেকে। ফলে মাত্র ১০ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পৌঁছতে পারবে যাত্রীরা। উদ্বোধন ফলক উন্মোচন শেষে সেতু সচিব মনজুর হোসেন প্রধানমন্ত্রীকে প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে তার ছোট বোন শেখ রেহানা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছিলেন। এর আগে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (কাওলা-ফার্মগেট) প্রথম যাত্রী হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাওলা প্রান্তের টোল প্লাজায় গাড়ি প্রতি ৮০ টাকা করে টোল দেন সরকার প্রধান। দ্রুতগতির এই উড়াল সড়কের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কাওলা থেকে রেললাইন ধরে তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর হয়ে যাত্রাবাড়ীর কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালীতে গিয়ে শেষ হবে এই উড়াল সড়ক। পুরো উড়াল সড়কে ৩১টি স্থান দিয়ে যানবাহন ওঠানামা।

শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে কাওলা ও পুরাতন বাণিজ্যমেলা প্রান্তে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উদ্বোধন শেষে কাওলা প্রান্তে রঙিন বেলুন উড়িয়ে দেয়া হয়। কাওলায় উদ্বোধন শেষে টোল পরিশোধ করে প্রধানমন্ত্রী ফার্মগেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে পরিদর্শন করেন। পরে তিনি সুধী সমাবেশে যোগ দেন। সুধী সমাবেশে ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যাক নেতাকর্মী অংশ নেন। সমাবেশ ঘিরে আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখে পুলিশ।



আন্দোলন করে সরকার পতনের হুমকি, নিষেধাজ্ঞা, ভিসা নীতির কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- এই মাটি আমাদের, এই সমস্ত ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পুরাতন বাণিজ্যমেলা মাঠে ঢাকা এলিভেটেড   এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর-ফার্মগেট অংশ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেতু সচিব মো. মনজুর হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এরপর ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি’ প্রকল্পের বিষয়ে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে প্রকল্পটির বিনিয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধি লি গুয়াংজিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের খুদে সংস্করণ উপহার দেন। 

তিনি তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বক্তব্যও দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। পরে দেশ ও জনগণের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম, ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রওশন আরা মান্নান।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমার স্পষ্ট কথা, এই মাটি আমাদের, আমরা দেশ স্বাধীন করেছি জাতির পিতার নেতৃত্বে। এই সমস্ত ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বাংলাদেশের মানুষ জানে অধিকার আদায় করতে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ তো ছয় ঋতুর দেশ। ছয় ঋতুর দেশে আমরা তো দেখি- কখনো বর্ষা, কখনো ঝড়, কখনো জলোচ্ছ্বাস, কখনো রৌদ্রোজ্জ্ব¡ল সময়।  এমন ভিন্নতা দেখে আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। আজকে যারা আন্দোলনের নামে রোজই ক্ষমতা থেকে আমাদের ফেলে দিচ্ছেন, আমি আপনাদের বলতে চাই, যারা এখানে উপস্থিত সকলকে বলবো, কবির ভাষায় বলবো- মেঘ দেখে করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে, হারা শশীর হারা হাসি, অন্ধকারেই ফিরে আসে। 



প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মেঘের ঘনঘটা আমরা দেখি, আবার তারপরে তো সূর্য ওঠে। কাজেই ওই ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। ভয়কে জয় করে বাংলাদেশের জনগণ তার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, নৌকা সারা জীবন উজান ঠেলে ঠেলে এগিয়ে গেছে। ঝড়-ঝঞ্ঝা পাড়ি দিয়ে আজকে নৌকা তীরে ঠেকে জনগণের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা মার্কা স্বাধীনতা দিয়েছে, নৌকা মার্কা অর্থনৈতিক উন্নতি দিয়েছে। নৌকা মার্কা ডিজিটাল বাংলাদেশ দিয়েছে। নৌকা মার্কাই আমাদের স্মার্ট বাংলাদেশ দেবে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মবিশ্বাস রেখে জনগণের কল্যাণে কাজ করলে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব, আমরা তা প্রমাণ করেছি; যার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। তিনি বলেন, আজকে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলে এখন আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছি। আজকে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেন হয়েছে? একটাই কারণ, ২০০৯ সাল থেকে যে গণতন্ত্র এবং মানুষের ভোটের অধিকার আমরা নিশ্চিত করে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে একটা গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল পরিবেশ রাখতে পেরেছি, তার কারণেই আজকে বাংলাদেশের এই উন্নয়ন। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েকে রাজধানীবাসীর জন্য উপহার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য নতুন মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে বিমানবন্দর, কুড়িল, মহাখালী, ফার্মগেট, মগবাজার, কমলাপুর এলাকায় যানজট নিরসন করবে। মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হবে না, দ্রুত উন্নতি হবে, কাজের সুযোগ তৈরি হবে। ঢাকাবাসীর আকাক্সক্ষা পূরণ হবে। আমরা যতটুকু করলাম, বাকিটুকু দ্রুত তৈরি হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন