https://www.prothomalony.com/

6059

bangladesh

বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা হচ্ছে!

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৩ ০৯:৪৮

১৬ আগস্ট বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ এবারের ইলেকশনের সময় যেন খুব বেশি উতলা হয়ে পড়ল। নির্বাচনের একেবারে দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন, কোথায় কী? কীভাবে হবে, তাই নিয়ে সব থেকে বেশি...এবং একের পর এক তাদের লোকজন আসা শুরু করল। কেন? কারণটা কী? আর বিএনপি এখন তাদের চোখের মণি, যে বিএনপি এত মানুষ হত্যা করেছে, জাতির পিতার হত্যার সাথে জড়িত। তারা কয় দিন আগেও আগুন দিয়েছে। ২০১৩, ১৪ ও ১৫-তে অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করল। কিছুদিন আগেও তো পুলিশের গাড়িতে আগুন দিল। পুলিশের ‍ওপর আক্রমণ করল। তো পুলিশ কি বসে বসে মার খাবে?’

আওয়ামী লীগ  সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০ বছর ধরে সংঘাত ছিল, আমি সরকারে (১৯৯৬) আসার পরে শান্তি ফিরিয়ে আনি। সেখানেও আবার নানা রকম অশান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টা হয়। যেহেতু এটা আমি জানি, আমি বুঝি, যে কারণে কীভাবে আমাকে ক্ষমতা থেকে সরাবে। তাদের কিছু কেনা গোলাম আছে, পদলেহনকারী আছে তাদের বসিয়ে এই জায়গাটাকে নিয়ে খেলবে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব থেকে অবাক লাগে, যেসব দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রাখা হয়েছে, তারা যখন আমাদের মানবাধিকারের কথা বলে। তারা নির্বাচনের কথা বলে, স্বচ্ছতার কথা বলে। তারা এখন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে খুব উতলা হয়ে পড়েছে। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, ২০০১ সালের নির্বাচনে এ দেশে নির্বিচারে অত্যাচার চলল। কত মানুষকে খুন করেছে, হাত কেটেছে, চোখ তুলে নিয়েছে ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়েছে। তখন নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়নি। সেই নির্বাচনে তো আমাদের হারার কথা নয়। সে নির্বাচনে জোর করে আমাদের হারানো হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল তখন তাদের নির্বাচনী চেতনা কোথায় ছিল? জিয়াউর রহমান বা জেনারেল এরশাদের সময় ৪৮ ঘণ্টা ভোটের ফল বন্ধ রেখে ফল ঘোষণা করে সেটা নিয়ে তো এদের কোনো উদ্বেগ দেখিনি। আজকে তাদের কাছ থেকে নির্বাচনের কথা, মানবাধিকারের কথা আমাদের শুনতে হয়। যেখানে আমরা বাবা-মায়ের হত্যার বিচার চাইতে পারতাম না। আমাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? হত্যার বিচার চেয়ে একটা মামলা করার অধিকার আমাদের ছিল না।’ 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে বিএনপি সন্ত্রাসী দল হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত, যাদের হাতে আমার বাবা-মা-ভাইয়ের রক্তের দাগ, হাজার হাজার নেতা-কর্মীর রক্তের দাগ, তাদের জন্য তারা (যুক্তরাষ্ট্র) উতলা হয়েছে। আজ তাদের নিয়ে ক্ষমতায় বসাতেই হবে। আসলে ক্ষমতায় বসানো নয়। আজকে সবার উদ্দেশে একটা কথা এখানে বলে রাখি, এদের উদ্দেশ্য এখানে নির্বাচন নয়, এদের উদ্দেশ্য গণতন্ত্র নয়। আমরা যে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করেছি, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছি, বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি হচ্ছে, মানুষ আজ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, দারিদ্র্যের হার কমছে। এরা একটা জিনিসই করতে চায়—বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে এরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।’

বাংলাদেশসহ এই অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে ভারত মহাসাগর, অপর দিকে প্রশান্ত মহাসাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভারত মহাসাগরে কিন্তু আমাদের বে অব বেঙ্গল (বঙ্গোপসাগর)। এর গুরুত্ব অনেক বেশি।’ তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের গণতন্ত্রের নাম নিয়ে, নির্বাচনের নাম নিয়ে, নানা নাম নিয়ে এই দেশে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করতে চায়, যাতে করে ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর ব্যবহার করা যায়। এটাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে আক্রমণ করা, দেশগুলোকে ধ্বংস করাই হচ্ছে কারও কারও উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই কিন্তু এদের নানা ধরনের টালবাহানা। এটা দেশবাসীকে বুঝতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের কিছু আঁতেল আছে। জানি না, তারা এসব চিন্তা করে কি না? তারা এগুলো কখনো উপলব্ধি করে কি না? সেগুলো না করেই তারা এদের সাথেই সুর মেলায়। দুটো পয়সার লোভে তারা নানাভাবে এই কাজগুলো করে বেড়ায়। এ বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’
 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন