https://www.prothomalony.com/
5913
bangladesh
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৩ ০৭:৩৮
'এস আলম’স আলাদিন’স ল্যাম্প’ (এস আলমের আলাদিনের চেরাগ) শিরোনামে ৪ আগস্ট ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক। ডেইলি স্টারে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম সিঙ্গাপুরে কমপক্ষে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। যদিও বিদেশে বিনিয়োগ বা অর্থ স্থানান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে এ-সংক্রান্ত কোনো অনুমতি তিনি নেননি বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অনুমতি ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগ নিয়ে এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর স্ত্রী ফারজানা পারভীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডির) প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৬ আগস্ট রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালত বলেছেন, মানি লন্ডারিং গুরুতর অপরাধ। সত্য-মিথ্যা যাচাই হওয়া উচিত। অভিযোগ সঠিক না হলে তাঁরা (এস আলম) হলফনামা দিয়ে বলবেন। বিভ্রান্তি থাকলে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বাইরে বিনিয়োগের জন্য এ পর্যন্ত ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিলেও চট্টগ্রামভিত্তিক বিশাল এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম সেই তালিকায় নেই। কাগজপত্রে আরও দেখা যায়, গত এক দশকে সিঙ্গাপুরে এস আলম অন্তত দুটি হোটেল, দুটি বাড়ি, একটি বাণিজ্যিক স্পেস এবং অন্যান্য যে সম্পদ কিনেছেন এবং সেখানেও বিভিন্ন উপায়ে কাগজপত্র থেকে তাঁর নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে এনে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। সায়েদুল হক লিখিত আবেদনও নিয়ে যান। দুদকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ শুনানি করেন।
শুনানিতে আদালত বলেন, সত্য-মিথ্যা যাচাই হওয়া উচিত। কোর্টে যাঁরা বসে আছেন, তাঁরা সবাই এবং দেশের সব নাগরিকই সংক্ষুব্ধ। পরে আদালত রুলসহ আদেশ দেন। পত্রিকায় উল্লিখিত ওই ঘটনায় যদি মানি লন্ডারিং হয়ে থাকে, তা রোধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা বা ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনের অভিযোগ অনুসন্ধানের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং অনুসন্ধানে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেদনের সত্যতার বিষয়ে ডেইলি স্টারকেও প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন