https://www.prothomalony.com/

18064

new-york

নিউইয়র্ক

শেকড়ের টানে নিউইয়র্কে চবিয়ানদের মিলনমেলা

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৩৩

প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে শেকড়ের টান, পুরোনো বন্ধুত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইনক.-এর ৩০তম বনভোজন ২০২৬।

গত ৩০ আগস্ট রোববার নিউইয়র্কের মনোরম Sunken Meadow State Park-এর East Orchard Pavilion-এ দিনব্যাপী এ আয়োজনে নিউইয়র্কসহ আশপাশের বিভিন্ন স্টেট থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী, তাঁদের পরিবার ও অতিথিরা অংশ নেন। সকাল থেকেই বনভোজনস্থল পরিণত হয় চবিয়ানদের প্রাণের মিলনমেলায়। দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস, আড্ডা ও স্মৃতিচারণের আবহ।

চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড, ওজন পার্ক ও জামাইকা থেকে নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বনভোজনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রাতঃরাশ পরিবেশনের পর সাড়ে ১১টায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার প্রধান উপদেষ্টা ও সংগঠনের অন্যতম প্রাণপুরুষ বিশিষ্ট আইনজীবী পারভেজ গাজী বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের উদ্বোধন করেন। এ সময় সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ মুহিত, সাধারণ সম্পাদক মীর কাদের রাসেল, প্রধান সমন্বয়ক ত্রিদিপ চৌধুরীসহ উপদেষ্টা, কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা ও বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা সাবিনা শারমিন নিহার ও সাধারণ সম্পাদক মীর কাদের রাসেল। তাঁদের আন্তরিকতা ও দক্ষ সমন্বয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচিগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।

বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। শিশুদের দৌড়, নারী-পুরুষের বল নিক্ষেপ, ফুটবল, মিউজিক্যাল পিলোসহ নানা প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও অংশ নেন। দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত ফুটবল খেলায় চবিয়ান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

 প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশ নিয়ে অনেকেই ফিরে যান বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সেই উচ্ছল দিনগুলোর স্মৃতিতে।
খাবারের আয়োজনেও ছিল বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। প্রাতঃরাশের পর মধ্যাহ্নভোজে পরিবেশন করা হয় পোলাও, সাদা ভাত, গরু, খাসি ও মুরগির কোরমা, সালাদ, রসগোল্লাসহ নানা পদ। দিনভর ছিল চা-কফির ব্যবস্থাও।

 প্রবাসের মাটিতে দেশীয় খাবার ও আপনজনদের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়ার আনন্দে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
সাংস্কৃতিক পর্বে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন জনপ্রিয় ক্লোজআপ তারকা রাজীব ভট্টাচার্য। তাঁর পরিবেশনায় বাংলা গানের পরিচিত সুরে মেতে ওঠেন উপস্থিত চবিয়ান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত র‍্যাফেল ড্র। পুরস্কারের তালিকায় ছিল Samsung Phone, Samsung 55-inch TV, Roku 50-inch TV, Samsung 43-inch TV, একাধিক HP Laptop, Apple iPad এবং Sentry Safe। আকর্ষণীয় এসব পুরস্কারকে ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কবিতা সেন, সঞ্জীব তালুকদার, মাকসুদা খানম, পারভেজ কাজী, মিনারা কাজী, দিবাকর সেন, অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ মুহিত ও ওয়াহিদুজ্জামান বকুল।

৩০তম বনভোজন সফল করতে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি শুভানুধ্যায়ী, ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, মনসুর আহমেদ, দিবাকর সেন, কবিতা সেন, পারভেজ কাজী, সাবিনা শারমিন নিহার, অধ্যাপক মাহবুব মাওলা, মোহাম্মদ আলমগীর, অ্যাডভোকেট এম. এ. হামিদ এবং পরাণে আগ্রাবাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা খোরশেদ আলম বাবুসহ আরও অনেকে।

বিভিন্ন পুরস্কারের স্পনসর হিসেবে সহযোগিতা করেন তারেক আব্দুল্লাহ, মাকসুদা খানম, জি. এম. ফারুক, মাকসুদা হক চৌধুরী, অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ মুহিত, মীর কাদের রাসেল, ইকবাল হোসেনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ী।

দিনব্যাপী আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ে নারী ও তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। খেলাধুলা, আড্ডা, গান, খাবার ও স্মৃতিচারণে পুরো দিনটি হয়ে ওঠে প্রজন্মের মিলনমেলা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জীবনের এক অমূল্য অধ্যায়। ক্যাম্পাসের দিনগুলো, বন্ধুদের আড্ডা, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার অসংখ্য স্মৃতি তাঁদের হৃদয়ে আজও অমলিন। নিউইয়র্কের এই বনভোজন সেই স্মৃতিগুলোকে যেন আবারও জীবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ মুহিত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ৩০তম বনভোজন ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
তবে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের মনে থেকে যায় দিনভর আনন্দের রেশ। নিউইয়র্কের সবুজ প্রান্তরে অনুষ্ঠিত ৩০তম এই বনভোজন শুধু একটি বিনোদনমূলক আয়োজন ছিল না; এটি ছিল বন্ধুত্ব, স্মৃতি, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনের এক আবেগঘন মিলনমেলা। হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও চবিয়ানরা যে নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক বন্ধনকে গভীরভাবে ধারণ করে চলেছেন—এই আয়োজন তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।
 

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন