https://www.prothomalony.com/
17984
north-america
রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর প্রায় ছয় বছর পর যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। চলতি মাসের শেষ দিকে তারা যুক্তরাজ্যে যাবেন এবং তাদের দুই সন্তান—প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেট—সেখানকার একটি স্কুলে ভর্তি হবে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যারি ও মেগানের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে রাজপ্রাসাদকে অবহিত করা হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজা তৃতীয় চার্লস তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার বিষয়টি জেনেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে আরও সময় কাটানোর ব্যাপারে আগ্রহী। তবে হ্যারি-মেগানের রাজপরিবারে কর্মরত সদস্য হিসেবে মর্যাদা বা ভূমিকা পরিবর্তন হবে না।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দম্পতি যুক্তরাজ্যে একটি ‘নন-রয়্যাল রেসিডেন্সে’ থাকবেন। তারা কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন না। বরং নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবেন।
হ্যারি ও মেগান ২০২০ সালের জানুয়ারিতে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে বসতি গড়েন।
তখন তারা জানিয়েছিলেন, তারা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে সময় ভাগ করে নেবেন এবং রাজপরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান বজায় রাখবেন। তাদের বড় ছেলে আর্চির বয়স তখন এক বছরেরও কম। বর্তমানে তার বয়স সাত বছর। ২০২১ সালে জন্ম নেয় তাদের মেয়ে লিলিবেট, যার বয়স এখন পাঁচ।
রাজপরিবার থেকে সরে যাওয়ার পর হ্যারি ও মেগানের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্পর্ক নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। ২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রের সঙ্গে এক বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকারে মেগান রাজপরিবারে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে নানা অভিযোগ করেন। বিশেষ করে আর্চির গায়ের রং নিয়ে রাজপরিবারের কয়েকজন সদস্যের উদ্বেগের দাবি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, উত্থাপিত বিষয়গুলো উদ্বেগজনক হলেও ঘটনার ‘স্মৃতি ভিন্ন হতে পারে’।
হ্যারি ২০২৩ সালে প্রকাশিত তার স্মৃতিকথায় রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নিয়ে নানা বিস্ফোরক দাবি করেন। বইটিতে বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে বিরোধ এবং বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়গুলো উঠে আসে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে হ্যারির সঙ্গে তার বাবার সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দেখা গেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য সফরের সময় হ্যারি, মেগান ও তাদের সন্তানরা রাজা চার্লসের সঙ্গে দেখা করেন। ওই সাক্ষাৎ ছিল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চার বছর পর চার্লস প্রথমবার তার নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা করেন।
প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের সঙ্গে হ্যারি-মেগানের সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ফেরার সিদ্ধান্তটি হ্যারির আগের অবস্থানের তুলনায় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেছিলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবতে পারছেন না। ব্রিটেনে তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াইও চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় হ্যারি ও মেগান নিজেদের ব্যবসায়িক ও গণমাধ্যমভিত্তিক পরিচিতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। মেগান পডকাস্ট, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং নিজস্ব ব্র্যান্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। তাদের স্পটিফাইয়ের ২ কোটি ডলারের চুক্তি ২০২৩ সালে শেষ হয়। চলতি বছর নেটফ্লিক্সের সঙ্গেও মেগানের অংশীদারত্বের অবসান ঘটে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এখন সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ সময় থাকার সিদ্ধান্ত তাই শুধু পারিবারিক পরিবর্তন নয়, রাজপরিবারের সঙ্গে হ্যারি-মেগানের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সূত্রগুলো স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাজ্যে ফিরলেও তারা রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ফিরছেন না।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন