https://www.prothomalony.com/

17981

north-america

উত্তর আমেরিকা

অভিবাসনবিরোধী কঠোরতায় জনশূন্যতার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ জনপদ

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০১:১৩

যুক্তরাষ্ট্রের ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা ও শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন অভিবাসীরা। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি, আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রমের কারণে এসব এলাকার অর্থনীতি ও জনসংখ্যা আবারও সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, ২০২৫ সালে অন্তত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের নিট প্রবাহ ঋণাত্মক হয়। চলতি বছরেও বহিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় একই প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক টিম স্ল্যাক বলেন, বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং তরুণদের শিক্ষা ও চাকরির জন্য শহরমুখী হওয়ার কারণে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে যে জনসংখ্যাগত সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় অভিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর ভাষায়, অভিবাসন গ্রামীণ আমেরিকার জন্য একটি ‘জনসংখ্যাগত জীবনরেখা’ হিসেবে কাজ করেছে।

২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ কাউন্টিগুলোর মোট জনসংখ্যা প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। এসব এলাকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে জনসংখ্যা কমেছে। অন্যদিকে যেসব গ্রামীণ এলাকায় জনসংখ্যা বেড়েছে, সেসব জায়গায় অনেক ক্ষেত্রেই অভিবাসীদের আগমন জনসংখ্যা ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

আইওয়ার স্টর্ম লেক শহরের সাবেক পুলিশ প্রধান মার্ক প্রসার বলেন, অভিবাসীদের আগমনে একসময় সংকুচিত ও প্রায় পুরোপুরি শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত শহরটিতে কর্মসংস্থান ও আবাসন বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী বাড়িতে ইংরেজির পরিবর্তে অন্য ভাষায় কথা বলে।

হাইতিয়ান অভিবাসীদের নিয়ে আতঙ্ক
ওহাইওর স্প্রিংফিল্ড শহরেও অভিবাসীদের অবদান নিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২০ সালের পর সেখানে প্রায় ১৫ হাজার হাইতিয়ান অভিবাসী আসেন। তাঁদের আগমনের পর শহরটির জনসংখ্যা ১৯৬০ সালের পর প্রথমবারের মতো বাড়তে শুরু করে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও সাময়িক সুরক্ষা কর্মসূচি বা টিপিএস বাতিলের কারণে সেখানে হাইতিয়ান অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেকে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ছে।

স্প্রিংফিল্ডের সেন্ট্রাল ক্রিশ্চিয়ান চার্চের প্রধান যাজক কার্ল রুবি বলেন, তাঁর গির্জায় হাইতিয়ান অভিবাসীদের আগমনের কারণে সদস্যসংখ্যা বেড়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক আটক ও বহিষ্কার অভিযানের আতঙ্কে গির্জায় হাইতিয়ানদের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

রুবি বলেন, স্থানীয় অবসরপ্রাপ্তদের সেবাকেন্দ্রগুলোতেও অনেক অভিবাসী কাজ করতেন। ফলে তাঁদের কর্মক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দিলে শুধু শ্রমবাজার নয়, বয়স্কদের সেবাব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অর্থনীতিতেও বড় প্রভাবের আশঙ্কা
অভিবাসন কমে গেলে শ্রমবাজার, কর রাজস্ব ও স্থানীয় ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী জেনি মারে বলেন, অভিবাসীরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কর দেন এবং ভোক্তা হিসেবে অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখেন। অভিবাসী শ্রমিক কমে গেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা কমবে, করদাতার সংখ্যা কমবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোও চাপের মুখে পড়তে পারে।

ওয়েলকামিং আমেরিকার নির্বাহী পরিচালক র‌্যাচেল পেরিচ বলেন, অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে মানুষের মধ্যে আস্থা ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতিও দেখা যাচ্ছে। এতে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যা ধরে রাখা, শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণ এবং স্থানীয় অর্থনীতি সচল রাখতে গ্রামীণ আমেরিকার জন্য অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ। টিম স্ল্যাক সতর্ক করে বলেন, অভিবাসন ছাড়া অনেক গ্রামীণ জনপদ ধীরে ধীরে বয়স্ক, ছোট এবং শেষ পর্যন্ত জনশূন্য হয়ে পড়তে পারে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন