https://www.prothomalony.com/

17982

north-america

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মভিত্তিক গ্রিনকার্ডের অপেক্ষা বাড়ছে, এক দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আবেদন জট

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০১:১৬

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে গ্রিনকার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় জট ও অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে কর্মভিত্তিক অভিবাসী আবেদনগুলোর জট গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের প্রতিবেদনে ২০১৬ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) ত্রৈমাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মভিত্তিক গ্রিনকার্ড প্রক্রিয়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আই-১৪০ আবেদনের জট ২০১৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪৩ হাজার ৫০৯টি থেকে বেড়ে ২০২৫ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৩৯টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক দশকে আবেদন জট চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।

আই-১৪০ আবেদনের জট কমাতে যে সময় প্রয়োজন হয়, সেটিও বেড়েছে। ২০১৬ সালের শুরুতে যেখানে প্রায় পাঁচ মাস সময় লাগত, ২০২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে রেকর্ড ১২ দশমিক ৩ মাসে পৌঁছায়।

একই সময়ে আবেদন প্রত্যাখ্যানের হারও বেড়েছে। ২০১৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে আই-১৪০ আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছে। অর্থাৎ ওই সময়ে প্রায় প্রতি ছয়টি আবেদনের একটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

ইবি-২ শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি জট
প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে আই-১৪০ আবেদনের মোট জটের ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশই ছিল ইবি-২ শ্রেণির। এর মধ্যে উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ আবেদন দ্রুত বেড়েছে।

২০২২ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে এনআইডব্লিউ আবেদন প্রায় তিন গুণ হয়েছে। একই সময়ে ইবি-২ এনআইডব্লিউ ও ইবি-১এ ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি অ্যাবিলিটি’ আবেদনে প্রত্যাখ্যানের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

২০২৫ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইবি-২ এনআইডব্লিউ আবেদন এবং প্রায় অর্ধেক ইবি-১এ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিসা পাওয়ার অপেক্ষাতেও লাখো আবেদনকারী
আই-১৪০ অনুমোদিত হওয়ার পরও অনেক অভিবাসী ভিসা নম্বরের জন্য অপেক্ষা করছেন। ২০২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এমন আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪১। ২০২৫ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে তা বেড়ে ৬ লাখ ৪২ হাজার ২২৬ জনে দাঁড়িয়েছে—প্রায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি।

এসব অনুমোদিত আবেদনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ইবি-২ শ্রেণির। আর ২০২৫ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে ভিসার অপেক্ষায় থাকা অনুমোদিত আবেদনের ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশের আবেদনকারীর জন্ম ভারতে।

ওয়ার্ক পারমিট ও গ্রিনকার্ডের আবেদনেও দীর্ঘ অপেক্ষা
কর্মভিত্তিক অভিবাসীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট বা আই-৭৬৫ আবেদনের জটও ২০২৫ অর্থবছরে বেড়েছে। এক পর্যায়ে এসব আবেদনের জট দ্বিগুণেরও বেশি হয় এবং জট কমাতে প্রয়োজনীয় সময় ২ দশমিক ৭ মাস থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ২ মাসে পৌঁছায়।

এ ছাড়া গ্রিনকার্ডের জন্য আই-৪৮৫ আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও আবার বেড়েছে। মহামারির সময় সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ১ মাসে পৌঁছানোর পর অপেক্ষার সময় কমলেও ২০২৫ অর্থবছরে তা আবার প্রায় ১৭ মাসে উঠে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদন সংখ্যা বৃদ্ধি, ইউএসসিআইএসের প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতার ঘাটতি, ভিসা নম্বরের সীমাবদ্ধতা এবং কিছু শ্রেণিতে বাড়তি যাচাই—সব মিলিয়ে কর্মভিত্তিক গ্রিনকার্ড প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার ক্ষেত্রেও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন