https://www.prothomalony.com/

17916

north-america

উত্তর আমেরিকা

হাতের গ্লাভসেই বৈদ্যুতিক শক — আইস কর্মকর্তাদের নতুন অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ ০৫:৪০

অভিবাসন গ্রেপ্তার নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার মুখে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) এবার প্রস্তুতি নিচ্ছে আরও একটি বিতর্কিত সরঞ্জাম যুক্ত করার। এমন একজোড়া গ্লাভস, যা পরিহিত অবস্থায় স্পর্শ করলেই বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রকাশিত এক নোটিশ অনুযায়ী, আগামী মার্চের মধ্যে এই ধরনের "কনডাক্টিভ ডিসট্র্যাকশন অ্যান্ড ডি-এস্কেলেশন ডিভাইস" কেনার জন্য সংস্থাটি ব্যয় করতে যাচ্ছে ১ কোটি থেকে ২ কোটি ডলার।

জি.এল.ও.ভি.ই. নামে পরিচিত এই গ্লাভস তৈরি করছে কেন্টাকির লেক্সিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস। কোম্পানির দাবি, এগুলো দেখতে সাধারণ টহল-গ্লাভসের মতোই, তবে একটি সুইচ চাপলেই তা বৈদ্যুতিক মোডে চালু হয়ে যায়। সরাসরি ত্বকে স্পর্শ করানো হলে এটি এমন এক ব্যথাদায়ক অনুভূতি তৈরি করে, যা মুহূর্তেই কাউকে বশে আনতে সাহায্য করে বলে প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য। ইন-কাস্টডি ডেথ প্রিভেনশন ইনস্টিটিউটের প্রধান জন পিটার্স, যিনি এই ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন, তিনি একে তুলনা করেছেন মৌমাছির কামড়ের সঙ্গে। আকস্মিক, তীব্র এবং মনোযোগ সরিয়ে দেওয়ার মতো। তাঁর মতে, এটি বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে শারীরিকভাবে কম শক্তিশালী বা বয়স্ক কর্মকর্তাদের জন্য, কারণ এতে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তবে বেসামরিক অধিকার সংগঠনগুলো এই পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) পুলিশিং প্রকল্পের উপ-পরিচালক জেন রোলনিক বোরচেটার প্রশ্ন, বেসামরিক অভিবাসন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আদৌ এমন ডিভাইসের প্রয়োজন কী। যাঁকে শক দেওয়া হবে তাঁর আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়ার সুযোগও থাকবে না। তাঁর ভাষ্যে, গত এক বছরে আইস ইতিমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে তারা অতি দ্রুত বলপ্রয়োগে ঝুঁকে পড়ে। এখন একটি বোতাম চাপলেই কাউকে চোখের আড়ালে তীব্র যন্ত্রণা দেওয়ার ক্ষমতা তাদের হাতে চলে আসবে। যা মানুষের জন্য ক্ষতির নতুন এক দুয়ার খুলে দিতে পারে। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নিজেই সতর্ক করে বলেছে, শাস্তি হিসেবে বা নিছক মৌখিক অবাধ্যতা প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে, কিংবা শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর এই ডিভাইস ব্যবহার করা উচিত নয়।

আইস এই পরিকল্পনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন হোয়াইট হাউসের প্রতিদিন ২ হাজার গ্রেপ্তারের চাপে সংস্থাটি ইতিমধ্যেই কড়া সমালোচনার মুখে। গত মাসেই মেইন ও টেক্সাসে গাড়ি থামানোর সময় আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই অভিবাসী প্রাণ হারান। দুটি ঘটনাতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গায়ে বডি ক্যামেরা ছিল না। এরপর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এখন থেকে প্রতিটি গ্রেপ্তার দলে অন্তত একজন কর্মকর্তা বডি ক্যামেরা পরবেন।

সমর্থকদের যুক্তি, এই ধরনের ডিভাইস সাধারণত কারাগার বা পরিবহনের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতেই ব্যবহৃত হয়।  রাস্তায় সাধারণ টহলে নয়। সহিংস সন্দেহভাজনদের গাড়িতে তুলতে অস্বীকৃতি জানানো বা নিজের ক্ষতি করতে উদ্যত বন্দীদের সামলাতে এটি কাজে লাগে বলে দাবি কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিসের। পিটার্স নিজেও স্বীকার করেছেন, অন্য যেকোনো পুলিশি প্রযুক্তির মতোই অল্প কিছু কর্মকর্তার হাতে এর অপব্যবহার হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। যদিও তাঁর ধারণা এতে গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা কম। তবে শর্ত হিসেবে তিনি জোর দিয়েছেন আইস-এর কঠোর নীতিমালা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপর। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্যমতে, এই ডিভাইস ব্যবহারের জন্য কর্মকর্তাদের একটি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রতি দুই বছর পরপর পুনরায় সনদায়ন নিতে হবে। 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন