https://www.prothomalony.com/

13713

bangladesh

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে করোনা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৫ ০১:৩৭

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবারও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টসহ করোনা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০১ জনকে পরীক্ষা করে ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৬০ জন। মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। আর গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তবে এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।

বুধবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও করোনার সংক্রমণ বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং জনসমাগমের কারণ রয়েছে। তাই দেশের সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং হেলথ স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ডা. আবু জাফর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জানান, নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ায় করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। সবাইকে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।

করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করার নির্দেশ দিয়েছে। শ্বাসতন্ত্রের রোগ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার অপরিহার্য। হাঁচি বা কাশি করার সময় নাক-মুখ কনুই বা টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখুন এবং ব্যবহৃত টিস্যু হাতে না নিয়ে দ্রুত ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন। হাত নিয়মিত সাবান ও পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে ধোয়া উচিত। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ থেকে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি অসুস্থ হলে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি মারাত্মক অসুস্থতা দেখা দেয় তবে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য সবাইকে রোগ প্রতিরোধের নির্দেশনাগুলো প্রচারের আহ্বান জানানো হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের নাক-মুখ ঢাকতে মাস্ক ব্যবহার করতে উৎসাহিত করতে হবে এবং যারা রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাদেরও অবশ্যই মাস্ক পরা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আইইডিসিআর-এর হটলাইন নম্বর ০১৪০১–১৯৬২৯৩-এ যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে।

সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বার বার বলছে, সংক্রমণ রোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় করোনার নতুন ঢেউ দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্তের ঘোষণা দেয় সরকার। করোনায় প্রথম মৃত্যুর কথা জানা যায় ওই বছরের ১৮ মার্চ। এর তিন বছর পর ২০২৩ সালের মে মাসে করোনার কারণে জারি করা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে করোনার অমিক্রন ধরনের একটি উপধরন জেএন.১-এ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। দ্রুত ছড়ানোর কারণে জেএন.১-কে ‘ভেরিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে অভিহিত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন