https://www.prothomalony.com/

13508

bangladesh

বাংলাদেশ

বিএনপি নেতার ওপর হামলাকে ঘিরে প্রবাসীদের ক্ষোভ, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৫ ০২:৩২

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাটের গাড়িবহরে সন্ত্রাসী হামলা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু দেশে নয়, প্রবাসেও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা প্রান্তে থাকা বিএনপিপন্থী প্রবাসী নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। তারা এই হামলাকে শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং বিএনপির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং প্রবাসী নেতাদের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবেই দেখছেন।

জানা গেছে, ঘটনার দিন রোববার (১৮ মে) দুপুরে আব্দুল লতিফ সম্রাট কালিয়ার বেন্দারচর সোয়াবিল এলাকায় ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে যোগানিয়া বাজার এলাকায় তার গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় দেড়শ’ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা, রড ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন, ৪০টির বেশি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলাকারীরা ভেঙে দেয় লতিফ সম্রাটের পাজেরো গাড়িটিও।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্ব সংকটের চিত্রও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয় নেতারা দাবি করেন, জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের নির্দেশে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও তিনি ঢাকায় অবস্থান করার কথা জানিয়ে দায় অস্বীকার করেছেন।

বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি ঢাকায় রয়েছি। কে বা কারা এই হামলা করেছে জানা নেই। আমার লোকজনের এখানে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে  প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই নিজেদের দীর্ঘদিনের অবদান ও রাজনৈতিক ত্যাগ স্মরণ করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, এই হামলা শুধু লতিফ সম্রাটের ওপর নয়, এটা আমাদের স্বপ্ন, মূল্যবোধ ও প্রবাসে বসে বিএনপিকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রামের ওপর সরাসরি আঘাত।
 

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একজন সাবেক সহসভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা লতিফ ভাইয়ের নেতৃত্বে বহু বছর যুক্তরাষ্ট্রে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছি। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তার কণ্ঠে ছিল তারুণ্য, সাহস আর প্রবাসীদের প্রত্যয়। আজ এমন একজন নেতাকে নিজ দলের লোকেরা যদি রাস্তায় পিটিয়ে আহত করে, তাহলে দেশের গণতন্ত্র কোথায়? আর আমরা প্রবাসে বসে কীসের জন্য কাজ করব?

আরেকজন জ্যেষ্ঠ প্রবাসী নেতা বলেন, একজন প্রবাসী নেতা দেশে ফিরে গণসংযোগ করতে গেলে যদি নিজ দলের লোকদের হামলার শিকার হন, তাহলে আমাদের ভবিষ্যতে দেশে ফেরা কীভাবে সম্ভব? নিরাপত্তা নিয়ে যদি অনিশ্চয়তা থাকে, তাহলে প্রবাসী নেতাকর্মীদের মনোবল কীভাবে গড়ে উঠবে?” তিনি আরও বলেন, আমরা কেবল অর্থ দিই না, আমরা বিশ্বমঞ্চে দলের মুখপাত্র। আজ সেই মুখপাত্রকে নিঃসংশয়ে রক্তাক্ত করে তোলা হয়েছে।

লন্ডন বিএনপির এক সংগঠক বলেন, বিএনপি একটা পরিবার। কিন্তু আজ দেখছি, সেই পরিবারের ভেতরে বিষ ঢুকেছে। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কেউ মতবিরোধ করলেই তাকে রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে মারার চেষ্টা করা হবে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, দল যদি নিজের অভ্যন্তরের বিভেদ সামাল দিতে না পারে, তাহলে দেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলবে। তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকেও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন—কীভাবে এমন বিভাজনের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে? কেন এখনো দোষীদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি?

এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে কালিয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেতারা দাবি করেন, জেলা বিএনপির নেতৃত্বাধীন একটি সুবিধাবাদী অংশই এ হামলার জন্য দায়ী। তারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

এদিকে নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন