https://www.prothomalony.com/

9799

bangladesh

বাংলাদেশ

এমপি আনার খু ন: দায়িত্বশীলরা দেখছেন, ‘মি স টে রি য়া স’ হিসেবে

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪ ১০:০৪

ভারতে গিয়েছিলেন চিকিৎসা করাতে। কিন্তু খুন হয়ে গেলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। তবে তার মরদেহ নিয়ে এখনও রহস্যের জট খুলেনি। এমপি আনারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও বলেছেন, মরদেহ আমাদের হাতে আসেনি।’ আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিধাননগরের যে ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিমকে হত্যা করা হয়েছে সেখানে তার মরদেহ পাওয়া যায়নি। এতে করে ‘খুন’ বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত হওয়া গেলো, সেই প্রশ্নও উঠেছে। 

‘খুন’ করে তার লাশ টুকরো টুকরো করে দফায় দফায় অন্য জায়গায় সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন যে, এরইমধ্যে এমপি আনারের মরদেহের ময়নাতদন্তও হয়ে গেছে। যদিও এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে কিছু বলা হয়নি। 

গত ১২ মে ভারতের কলকাতায় আসার পর দিন ১৩ মে থেকে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান ঝিনাইদহ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। চিকিৎসার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পর সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ১২ মে দর্শনা–গেদে সীমান্ত দিয়ে কলকাতা আসেন।

কলকাতায় এসে তিনি উঠেছিলেন দীর্ঘদিনের পরিচিত বরানগরে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে। দু’দিন সেখানে থাকার পর ১৪ তারিখ তিনি গোপালকে জানান, বিশেষ প্রয়োজনে তিনি বের হচ্ছেন, আজই ফিরে আসবেন। তবে তার পরদিনও আনার না ফেরায় গোপাল নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

এরপর ২২ মে বুধবার সকালের দিকে তার খুনের খবর সামনে আসে। জানা যায়, কলকাতার কাছেই নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেনের (ব্লক ৫৬ বিইউ) একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়। এদিন সকালের দিকে ঘটনাস্থলে যায় স্থানীয় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্ত নিউটাউন থানার পুলিশ। 

পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ফরেনসিক টিম, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞ, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা। এমনকি খুনের গুরুত্ব অনুধাবন করে তদন্তে নামে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি)। তখনও পুলিশ এমপি আনারের মরদেহ পাওয়া গেছে কি না, সেটা বলেনি। 

বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আইজি (সিআইডি) অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজিম ব্যক্তিগত সফরে এসে এখান থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। ১৮ মে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। 

সংসদ সদস্যের পরিচিত গোপাল বিশ্বাস এই অভিযোগ দায়ের করেন এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা তদন্ত শুরু করি। এই তদন্ত করার জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়। এরপর গত ২০ মে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। 

তিনি বলেন, বুধবার আমাদের কাছে একটি তথ্য আসে যে তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। এরপরই আমাদের পুলিশ এই ফ্ল্যাটটিকে শনাক্ত করে কারণ, এখানেই তাকে শেষবার তার দেখা গিয়েছিলো। মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। 

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার কারণ সম্পর্কে তার পরিবার, রাজনৈতিক দল, দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট করে এখনও পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বুধবার দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আসলে এটা কী কারণে ঘটেছে জানতে আমাদের তদন্ত চলছে। এটা পারিবারিক নাকি আর্থিক, অথবা এলাকায় কোনো দুর্বৃত্ত দমন করার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, সবকিছু আমরা তদন্তের আওতায় আনবো। এ ঘটনায় পুলিশ ঢাকার মোহাম্মদপুর ও সাভার থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা ৫ কোটি টাকার চুক্তিতে কলকাতায় ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করেছেন। পুরো কিলিং মিশনে নেতৃত্ব দেন আমানউল্লাহ নামের একজন। তাঁকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এটি নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড- এটা মনে করেই তদন্তকারী কর্মকর্তারা কাজ করছেন। নিবিড়ভাবে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কয়েকজন আমাদের কাছে আছে, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা সব কিছু বলতে পারছি না।

এমপি আনার হত্যায় ঢাকা ও কলকাতায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। কলকাতার মামলাটি পশ্চিমবঙ্গের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।

দুই দেশের পুলিশের সন্দেহ, হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে সোনা কারবারের টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ। ছোটবেলার বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার আক্তারুজ্জামান শাহীনের পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড হয়। খুন করার আগে বিলাসবহুল একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে দেশ থেকে ছয়জনের একটি কিলিং স্কোয়াড নিয়ে যান তিনি। পরে ব্যবসায়িক আলোচনা করতে ফ্ল্যাটে ডেকে এমপি আনোয়ারুল আজীমকে হত্যা করা হয়। টুকরা টুকরা করে কাটা হয় লাশ। এরপর উবার ভাড়া করে ট্রলিতে ভরে সেই লাশ গুম করেন কিলিং মিশনের সদস্যরা।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম এভাবে কোনও সংসদ সদস্যের নিখোঁজ ও খুন হওয়ার ঘটনা ঘটল। এটাকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা দেখছেন, ‘মিসটেরিয়াস’ হিসেবে।
 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন