https://www.prothomalony.com/

9635

bangladesh

বাংলাদেশ

প্রবীন রাজনীতিবিদ হায়দার আকবর খান রনো আর নে ই

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪ ১১:৩৯

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা হায়দার আকবর খান রনো  আর নাই। 

প্রবীণ এই রাজনীতিক ও লেখক ১০ মে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর পান্থপথের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। রনোর মৃত্যুর তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সিপিবি'র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।

জানা যায়, হায়দার আকবর খান রনো তীব্র শ্বাসতন্ত্রীয় অসুখ (টাইপ-২ রেসপিরেটরি ফেইলিওর) নিয়ে গত ৬ মে সন্ধ্যায় পান্থপথের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালটির হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রেখে বিশেষ পদ্ধতিতে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই মারা যান তিনি। তাঁর তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল।

সিপিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,  হায়দার আকবর খান রনোর শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে স্থান ও সময় আলোচনা করে পরে জানানো হবে। 

১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন অন্যতম সংগঠক। ১৯৭০ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন পূর্ব বাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালে কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি দেশের অভ্যন্তরে ১৪টি আধামুক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলে। এই সংগঠনের প্রায় ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা এই অঞ্চলগুলোতে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছিলেন এবং শহীদ হয়েছিলেন শতাধিক।

একাধিক বইয়ের লেখক মার্ক্সবাদী এই তাত্ত্বিক পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।রাজনীতি ছাড়াও তিনি মার্কসবাদ, রাজনীতি, ইতিহাস, দর্শন, অর্থনীতি, সাহিত্য ও বিজ্ঞান (পদার্থবিদ্যা) সংক্রান্ত বিষয়ে বই ও অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখেছেন। ২০২২ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

হায়দার আকবর খান রনোর জন্ম ১৯৪২ সালের ৩১ আগস্ট তার পৈতৃক নিবাস নড়াইলের বরাশুলা গ্রামে।১৯৫৮ সালে ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অধিকার করে ম্যাট্রিক পাসের পর নটরডেম কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন রনো। তবে কারান্তরীন থাকায় তিনি স্নাতক শেষ করতে পারেননি। এরপর জেলখানার বসেই পরীক্ষা দিয়ে এলএলবি ডিগ্রি পান। পরবর্তীতে হাইকোর্টের সনদ পেলেও এটিকে পেশা হিসেবে নেননি।

 প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার পক্ষ থেকে প্রবীন এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন