https://www.prothomalony.com/
8986
bangladesh
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৪ ১৪:০১
একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদ হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। বিভিন্ন সময় এসব পদক দেয়ার জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে বিতর্কও কম হয় না। চলতি বছর একুশে পদক ও স্বাধীনত পদক নিয়েও বিতর্ক ওঠেছে। সমাজসেবায় ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার বাসিন্দা অরণ্য চিরান স্বাধীনতা পদকে মনোনিত হওয়ায় অনেকেই হতবাক হয়েছেন। আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতারাও স্তম্ভিত। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে অরণ্য চিরানকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে তার পদক বাতিলের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেছেন ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশান একাংশের চেয়ারম্যান সুবাস চন্দ্র বর্মন ১৭ মার্চ রোববার।এর আগে ১৬ মার্চ শনিবার ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বরাবরে এই আবেদন করা হয়। এনিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সচেতন মহলে।
সূত্র মতে, ১৫ মার্চ শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তির তালিকায় দশজনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।এর মধ্যে তিনজনই ময়মনসিংহের বাসিন্দা। তারা হলেন- চিকিৎসাবিদ্যায় ডা. হরিশংকর দাস, ক্রীড়ায় ফিরোজা খাতুন এবং সমাজসেবায় অরণ্য চিরান।
তবে তালিকা প্রকাশের পর খবরটি জানাজানি হলে অরণ্য চিরানকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনসহ নানা মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই মাঝে অরণ্য চিরানের নাম পুরস্কারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সুবাস চন্দ্র বর্মন। সূত্রটি আরও জানান, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশান নামক সংগঠনটি সমতল ভূমির বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর একটি জাতীয় সামাজিক সংগঠন। এই সংগঠনটির ব্যাপ্তি দেশজুড়ে থাকলেও তা পরিচালিত হয় ময়মনসিংহ নগরীর ভাটিকাশর কেন্দ্রীয় দফতর থেকে। ১৯৭৭ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০২১ সালে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে সংগঠনটি দুইভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর একটি অংশে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি পদে নেতৃত্বে রয়েছেন অরণ্য চিরান। অপর অংশের একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন বিপুল হাজং। এই অবস্থায় অরণ্য চিরানকে বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে তার পদক বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশানের অপর পক্ষ।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান সুবাস চন্দ্র বর্মণ স্বাক্ষরিত এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গারো সম্প্রদায় বা সাধারণ বাঙালি সমাজে অরণ্য চিরানের এমন কোনো অবদান নেই। যে কারণে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক এই পুরস্কার পেতে পারেন না। বরং অরণ্য চিরানের বিরুদ্ধে বিস্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দুই পৃষ্ঠার লিখিত এই অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর স্পেশাল অ্যাফেয়ার বিভাগ থেকে আবাসন প্রকল্পের অধীনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর নিয়ে অনিয়ম করেছেন। নিজের জমি আছে কিন্তু বাড়ি নেই, এমন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জন্য এই প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অরণ্য চিরান ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ঘর করে দিয়েছেন। ঘর পাওয়াদের মধ্যে দুইজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী রয়েছেন। তারা প্রতিমাসে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা উপার্জন করেন। এছাড়াও একজন আছেন বিসিএস কর্মকর্তা। মূলত এসব দুর্নীতির কারণে অরণ্য চিরানকে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশান ময়মনসিংহ সদর উপজেলা শাখার একাংশের সভাপতি বিপুল হাজং অভিযোগ করে বলেন, অরণ্য চিরানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করায় আমরা লজ্জিত। তিনি কোনোভাবেই এ পুরস্কারের যোগ্য নন। এনজিওতে চাকরি করে তিনি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। সমাজসেবায় তার কোনো অবদান নেই। বরং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির নামেও প্রতারণার অভিযোগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের তদন্ত করলেই সত্যতা মিলবে।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি ছুটির দিন থাকায় আমি অভিযোগ এখনো হাতে পাইনি। আগে অভিযোগ পাই, পরে বিস্তারিত বলা যাবে।
তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অরণ্য চিরান। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কিছু লোক ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তি নিয়ে অযথা সমালোচনা করছেন। আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা বলছেন, জাতীয় পর্যায়ে ঘোষিত পুরস্কার যদি ভুল বা অযোগ্য ব্যক্তি পান তাহলে দুঃখের শেষ নেই। স্বাধীনতাবিরোধীরাও বিভিন্ন সময়ে পদক ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার-সম্মাননা যদি ভুল মানুষ পায়, তার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। পুরস্কার, সম্মাননা প্রত্যাহার করে যোগ্য ব্যক্তিদের সম্মানিত করার মধ্যে নিঃসন্দেহে মহত্ত্ব আছে। দেশে অনেক মানুষ আছেন, যারা নীরবে-নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের স্বীকৃতি নেই। তাদের স্বীকৃতি দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন