https://www.prothomalony.com/

8482

bangladesh

বাংলাদেশ

৫৯ বছর পর চালু হলো মুর্শিদাবাদ-রাজশাহী নৌপথ

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১৩:৫৫

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে রাজশাহী থেকে নৌপথে ভারতে পণ্য পারাপার করা হতো। ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদীঘি থানার ময়া এলাকা থেকে গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ পর্যন্ত পণ্য আনা-নেওয়া হতো। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হতো পাট ও মাছ। ভারত থেকে আসত বিভিন্ন পণ্য। ৫৯ বছর পর আবারও এই নৌপথে শুরু হচ্ছে বাণিজ্য। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এর উদ্বোধন হবে।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বন্ধ করে দেওয়া হয় এই নৌপথ। এত বছর পর নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় আবার চালু হচ্ছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সুলতানগঞ্জ নদী বন্দর উদ্বোধনের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। উদ্বোধনের পর সুলতানগঞ্জ ঘাটটি নদী বন্দরের মর্যাদা পাবে।

জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই পথে ভারত থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্য ছাড়াও বিভিন্ন কৃষিপণ্য ভারতে যাবে। এসব পণ্য মূলত বিভিন্ন স্থলবন্দরের মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। সুলতানগঞ্জ নৌ বন্দরের মাধ্যমে এসব পণ্য ভারত থেকে আমদানিতে সময় ও খরচ কম হবে। এতে উপকৃত হবেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বছরে এই নৌপথে দুই দেশের মধ্যে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নৌ-বন্দরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, রাজশাহী থেকে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার নৌপথের অনুমোদন থাকলেও পদ্মার নাব্যতা সংকটের কারণে কার্যকর করা হয়নি। ফলে পথটি সংক্ষিপ্ত করে গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ থেকে মুর্শিদাবাদের ময়া নৌ-বন্দর পর্যন্ত আড়াআড়িভাবে ২০ কিলোমিটার পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া হবে। শুরুতে এই নৌপথ দিয়ে ভারত থেকে পাথর, বালু ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী আনা হবে।

উদ্বোধন ঘিরে সুলতানগঞ্জ নৌ-বন্দরকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। জোরেশোরে চলছে কাজ। পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে রাস্তা। পল্টুনও তৈরি রাখা হয়েছে, চলছে রঙের কাজ। পাশেই রাখা হয়েছে বড় একটি ট্রলার। এই ট্রলার দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ভারতে পণ্য পাঠানো হবে। নৌ-বন্দর ঘাটের পাশে রাখা আছে সারিসারি ইট। পলি মাটিতে এই ইট দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুলতানগঞ্জ থেকে ময়া নৌ-ঘাটের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। সুলতানগঞ্জ নৌ-ঘাট রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার ভেতরে পদ্মা মহানন্দার মোহনায় অবস্থিত। সারা বছর সুলতানগঞ্জ পয়েন্টে পদ্মায় পানি থাকে। পশ্চিমবঙ্গের ময়া নৌ-ঘাটটি মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমা শহরের কাছে ভারতীয় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সুলতানগঞ্জ-ময়া পথে নৌ-বাণিজ্য শুরু হলে পরিবহন খরচ কমবে।

নৌপথ চালুর বিষয়ে খুশি স্থানীয়রা। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশের অবকাঠামোর উন্নয়নকাজের জন্য প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পাকুড় ব্র্যান্ডের পাথর ও খনিজ বালুর প্রয়োজন হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও যমুনা রেলসেতুর মতো বড় বড় প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের পাকুর ব্র্যান্ডের পাথর; যা সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে। তবে সড়কপথে এসব পণ্য আমদানিতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি খরচ বেশি পড়ে। নৌপথে এসব পণ্য আমদানি হলে পরিবহন খরচ কম পড়বে।

উদ্বোধনের পর সুলতানগঞ্জ ঘাটটি নদী বন্দরের মর্যাদা পাবে/ঢাকা ট্রিবিউন নৌপথ চালুর প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা  বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকলের আওতায় নদীপথে দুই দেশের মধ্যে কম খরচে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। সুলতানগঞ্জ নৌ-বন্দরের কার্যক্রম চালু হলে মুর্শিদাবাদ জেলার ময়া নৌ-বন্দরের সঙ্গে নদীপথে বাণিজ্য শুরু হবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারত; দুই দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।”

সুলতানগঞ্জ-ময়া লাভজনক ও চমৎকার নৌপথ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “দুই বন্দরের অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা এখনও রয়েছে। তবে সুলতানগঞ্জ বন্দর চালু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সেগুলো ঠিক হয়ে যাবে। ভারত ময়া ঘাট প্রস্তুত করেছে। উদ্বোধন হলে পণ্য আনা-নেওয়া শুরু হবে।”

পদ্মা-মহানন্দার মোহনায় সারা বছর পানি থাকে জানিয়ে আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, “বিপরীতে ময়া বন্দরটিতেও সারা বছর পানি থাকে। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার মাঝখানে কিছু পথে নাব্যতা কমে যায়। তেমন পরিস্থিতি দেখা দিলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ড্রেজিং করে নৌপথটি সারা বছর সচল রাখা হবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ময়া থেকে সুলতানগঞ্জে আসতে পণ্যবাহী নৌযানের সময় লাগবে এক ঘণ্টা। এতে অনেক খরচ বাঁচবে ব্যবসায়ীদের।”

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন