https://www.prothomalony.com/

8097

bangladesh

বাংলাদেশ

আত্মপ্রকাশ করেছে নাগরিক সংগঠন 'ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)'

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০২৪ ১০:০১

আত্মপ্রকাশ করেছে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন 'ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)।'  

সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে ১১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে  অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী এবং ঘোষণাপত্র উপস্থাপন ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, রোমান ক্যাথলিক চার্চের আর্চবিশপ বিজয় নিসফরাস ডি’ক্রুজ, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ প্লানার্সের সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের বেসরকারি উপদেষ্টা এম এস সিদ্দিকী, নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম চৌধুরী কিম, আদিবাসী পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক সমন্বয়ক ফাদার জোসেফ গোমেজ, সহ অন্যান্য নাগরিক নেতৃবৃন্দ।

 সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বৃহৎ দুইটি রাজনৈতিক দলের দুইজন জনপ্রতিনিধি খুলনা-৬ সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ রশীদুজ্জামান এবং ঢাকা ৭৫ নং ওয়ার্ডের কমিশনার মোঃ আকবর হোসেন যোগ দিয়ে এই উদ্যোগের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই সভাপতি রাশেদা কে চৌধূরী এই সংগঠন তৈরির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং দেশের নদী ও জলাশয়সমূহ দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সবাইকে আরো বেশি সোচ্চার হবার আহবান জানান। তিনি স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ তুলে ধরে আরো বলেন, “আমাকে বানিশান্তায় কৃষিজমি রক্ষার আন্দোলনের সময় একজন নারী জানতে চেয়েছেন নদী কেন ২ দিকেই ভাঙ্গে। তিস্তা রক্ষার জনসভায় একজন গ্রামবাসী আমাকে নারী নির্যাতনের চেয়ে নদী নির্যাতন নিয়ে আমাদেরকে আরো বেশি সোচ্চার হতে অনুরোধ করেছেন।“

শরীফ জামিল সংবাদ সম্মেলনে নতুন সংগঠন ধরা’র ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং সংগঠনের মোট ১১টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। সুলতানা কামাল সংগঠনটির ৫ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি, ১৩ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ও ৮ টি নবঘোষিত কর্মসূচী ও তার সমন্বয়কদের নাম ঘোষণা করেন। উপদেষ্টা কমিটির সদস্যেবৃন্দ হলেন সুলতানা কামাল (সভাপতি), উপদেষ্টা, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার; ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন; আর্চবিশপ বিজয় নিসফরাস ডি’ক্রুজ, আর্চবিশপ, রোমান ক্যাথলিক চার্চ, ঢাকা; ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, এমডি, এফএএসএন, অধ্যাপক, টেম্পল ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; এবং অজয় এ মৃ, সাবেক সভাপতি, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, মধুপুর।

আহবায়ক কমিটির সদস্যেবৃন্দ হলেন রাশেদা কে. চৌধুরী (আহবায়ক), নির্বাহী পরিচালক, গণস্বাক্ষরতা অভিযান; শারমিন মুরশিদ (সহ-আহবায়ক), নির্বাহী পরিচালক, ব্রতি; এম এস সিদ্দিকী. (সহ-আহবায়ক), বেসরকারি উপদেষ্ঠা, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন; শরীফ জামিল (সদস্য সচিব), সমন্বয়ক, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, স্থপতি সালমা এ. শাফি (সদস্য), স্থপতি নগর উন্নয়ন, সঞ্জিব দ্রং (সদস্য), সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম; আকতার মাহমুদ (সদস্য), অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; আদিল মোহাম্মদ খান (সদস্য), সভাপতি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স, ফাদার জোসেফ গোমেজ, ওএমআই (সদস্য), মানবাধিকার ও পরিবেশকর্মী, মোঃ মারুফ হোসেন (সদস্য), পরিবেশকর্মী, ফজলুল কাদের চৌধুরী (সদস্য), নির্বাহী পরিচালক, গ্রীণ কক্সবাজার স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন; আব্দুল করিম কিম (সদস্য), সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার; এবং আরাফাত জুবায়ের (সদস্য), পরিবেশকর্মী।

নবঘোষিত কর্মসূচী ও কর্মসূচীর সমন্বয়কদের মধ্যে আছেন লাঠিটিলা রক্ষায় আমরা, আব্দুল করিম চৌধুরী কিম; চুনুতি রক্ষায় আমরা, সানজিদা রহমান; হাওর রক্ষায় আমরা, তোফাজ্জল সোহেল; উপকূল রক্ষায় আমরা, নিখিল চন্দ্র ভদ্র; সুন্দরবন রক্ষায় আমরা, নুর আলম শেখ; চলনিবল রক্ষায় আমরা, জাহাঙ্গীর আলম; যমুনা রক্ষায় আমরা, জিয়াউর রহমান এবং বরেন্দ্র রক্ষায় আমরা, মোঃ আফজাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রফেসর ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই ধরিত্রী রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। সবাই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিজেদের জায়গা হতে নিজেদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করলেই আমরা বাংলাদেশ ও এই ধরিত্রী রক্ষা করতে পারব ”।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের পরিবেশ বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে কথা বলার পাশাপাশি সশরীরে গিয়ে কাজ করতে হবে, ঘরে বসে থাকলে চলবে না। “ধরা” এর মাধ্যমে আমাদের পরিবেশ রক্ষায় কাজ করার একটি নতুন পথ সৃষ্টি হলো। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাইকে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করতে হবে”।

রোমান ক্যাথলিক চার্চের আর্চবিশপ বিজয় নিসফরাস ডি’ক্রুজ তার বক্তব্যে বলেন, “ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করে খুবই খুশি হয়েছিলেন কিন্তু আমরা সেই পৃথিবীর পরিবেশ নষ্ট করছি যে কারণে আজ ধরিত্রী কাঁদছে। আমাদেরকে ধরিত্রীর এই কান্না শুনতে হবে। সৃষ্টি হল ঈশ্বরের আশীর্বাদ আমরা যেন তার রক্ষা করতে পারি সেই লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে”।

সংবাদ সম্মেলনে শারমীন মুরশিদ, সঞ্জীব দ্রং, ড. আদিল মোহাম্মদ খান, আব্দুল করিম কিম, সানজিদা রহমান, অনির্বাণ শাহরিয়ার, হাবিব রহমানসহ আরও অনেকেই বক্তব্য রাখেন এবং নতুন এই সংগঠনের কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশার কথা ব্যাক্ত করার পাশাপাশি ধরার কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন।

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রশীদুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, “খুলনাসহ বিভিন্ন লবণ পানি আক্রান্ত এলাকায় গৃহস্থলী পরিবেশ বলে কিছু নেই। লবণাক্ততার কারণে এলাকায় গাছপালা, পশুপাখিসহ সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জলবায় পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে এসব এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে”। নতুন এই সংগঠন আগামী দিনে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক গণও আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।

ঢাকা ৭৫ নং ওয়ার্ডের কমিশনার মোঃ আকবর হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদেরকে সমাজের দুষ্ট চিন্তার বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। আমাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে কাজ করতে হবে এবং আশেপাশের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। এই কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে ভয় পেলে চলবে না”। তিনি নতুন এই সংগঠনের শক্তিশালী নেতৃত্ব দেখে উৎসাহিত হয়েছেন বলে জানান।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন