https://www.prothomalony.com/

7871

bangladesh

বাংলাদেশ

নির্বাচনে এখন ব্যবসায়ীরাই প্রধান : মন্ত্রীর হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৮:৩০

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ তেমন নেই। কোটিপতি আর ব্যবসায়ীদের  আগ্রহ বেড়েছে অনেক। গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবসায়ী অংশ নিচ্ছে সাতই জানুয়ারির নির্বাচনে। নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে আর্ন্তজাতিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা টিআইবি ২৬ ডিসেম্বর  মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলছে, নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের ২৭ ভাগই কোটিপতি।

প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রীদের মধ্যে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সীর। আর ১৫ বছরের মধ্যে সম্পদ বেড়েছে খাদ্যমন্ত্রীর। নাম গোপন রেখে এক মন্ত্রীর সম্পদের হিসাব তুলে ধরে টিআইবি বলছে, দেশের বাইরে ঐ মন্ত্রীর দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও তা প্রকাশ করা হয়নি হলফনামায়। তবে টিআইবির এই প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন বলছে, হলফনামার তথ্য দেয়া একটা বিধান। এতে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলেও কিছু করার নেই নির্বাচন কমিশনের।
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করছে তাদের বেশিরভাগের প্রার্থীরই মূল পেশা ব্যবসা। হলফনামা বিশ্লেষণ করে টিআইবি দেখতে পেয়েছে সেখানে সর্বোচ্চ ৫৭ শতাংশই ব্যবসায়ী রয়েছেন। অন্য পেশাজীবিদের মধ্যে যারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, তাদের মধ্যে নয় দশমিক ১৭ ভাগ আইনজীবি, সাত দশমিক ৮১ ভাগ কৃষিজীবি, পাঁচ দশমিক ১৬ ভাগ চাকুরিজীবী। আরও রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও গৃহস্থালির কাজের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা। কিন্তু পেশাদার রাজনীতিবিদের হার মাত্র দুই দশমিক ৮৬ ভাগ।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ''দেশে স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এখন দেখা যাচ্ছে না। যারা ব্যবসায়ী হিসেবে রাজনীতিতে আসেন, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া তারা মূলত রাজনীতিটাকে তাদের ব্যবসায়ের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন''।

''যারা নির্বাচনে আসেন, এটা তাদের বিনিয়োগ। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে চান মূলত মুনাফা অর্জন করার জন্যই,'' বলেছেন ইফতেখারুজ্জামান। হলফানামা বিশ্লেষণ করে টিআইবি প্রতিবেদন বলছে, মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে মন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সির। তার আয় বেড়েছে দুই হাজার ১৩১ শতাংশ। এর পরই রয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

এই তালিকায় শীর্ষ দশের মধ্যে আরো আছেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নাম। আর ৫ বছরের মধ্যে যে দশ জন মন্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে তাদের মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নাম। সম্পদ বৃদ্ধির এই তালিকায় দশজনের মধ্যে ছয়জনই প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী।

হলফনামা বিশ্লেষণ করে টিআইবি’র দেয়া তথ্য বলছে, গত তিন মেয়াদের ক্ষমতায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ১৫ বছরের মধ্যে সম্পদ বৃদ্ধির এই তালিকায় রয়েছেন তিনজন প্রতিমন্ত্রী ও সাত জন মন্ত্রী। আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, ''মন্ত্রী পদে থেকে ব্যবসা করা সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ। মন্ত্রীর পদে থেকে বাড়ি ভাড়া ছাড়া কোন ধরনের ব্যবসায়িক আয় তারা করতে পারেন না''।তিনি বলেছেন, ''মন্ত্রীরা যদি হলফ করে বলেন তাদের আয় বেড়েছে, সম্পদ বেড়েছে তাহলে এটা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। এটা সংবিধানের ১৪৭ ধারার ৩ উপধারায় স্পষ্ট করে বলা আছে,'' ।
 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন