https://www.prothomalony.com/

7522

bangladesh

বাংলাদেশ

সারাদেশে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভুত: ২৫ বছরের মধ্যে দেশের ভেতরে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:০৫

২ ডিসেম্বর শনিবার সকালে সারা দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। এতে রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় কম্পন ও দুলুনির পাশাপাশি রীতিমতো ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বেড়ে গেছে। ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞদের হিসাবে, গত ২৫ বছরে দেশের ভেতরে সৃষ্টি হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। ১৯৯৮ সালের মে মাসে সিলেটের বড়লেখায় ৫ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূকম্পন সৃষ্টি হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর এ নিয়ে দেশে ৫ মাত্রার ওপরে মোট ছয়টি ভূমিকম্প হলো। এর আগে ২০২২ সালে মাঝারি মাত্রার বা রিখটার স্কেলে ৫–এর ওপরে মোট তিনটি ভূমিকম্প হয়। অথচ ১৯৭২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে কটি ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যে মাঝারি মাত্রার কম্পনের ঘটনা ঘটেছে প্রতি দুই থেকে চার বছরে একবার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাঝারি মাত্রার কম্পন হঠাৎ বেড়ে গেছে।

বিশ্বের শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে গতকালের ৫ দশমিক ৬ মাত্রা খুব বেশি তীব্র নয়। আর ভূমিকম্পের উৎসস্থলটি নদী পরিবেষ্টিত এবং মূলত পলিমাটি দিয়ে তৈরি গ্রামীণ এলাকা। ফলে ভূমিকম্পের কারণে উৎসস্থল এলাকায় তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবনে ফাটল এবং আতঙ্ক সৃষ্টির কারণে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার মনে করেন, লক্ষ্মীপুরের ভূমিকম্পটি যে অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে ভূ–অভ্যন্তরে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত হয়ে আছে। সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত এ এলাকায় যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় ভূমিকম্প হতে পারে। ২ ডিসেম্বর শনিবার  হলো রামগঞ্জে, পাঁচ মাস আগে হলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। এসব ঘটনা বড় ভূমিকম্প হওয়ার পূর্বলক্ষণ।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (ইউএসজিএস) হিসাবে, গত অক্টোবরে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যার উৎপত্তিস্থল ছিল শেরপুরে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর ৫ মাত্রার, ১৪ আগস্ট ৫ দশমিক ৩ মাত্রার, ১৬ জুন ৫ মাত্রার এবং ২৩ জুন ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ চার ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল সিলেটে।

এর আগে গত বছর (২০২২) মোট তিনটি ৫ মাত্রার বেশি ক্ষমতার ভূমিকম্প হয়। ওই বছরের ১৫ আগস্ট ৫ দশমিক ১ মাত্রার এবং ২৩ জানুয়ারি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ওই বছর বাংলাদেশে ১৭টি ভূমিকম্প হয়। বেশির ভাগের মাত্রা ছিল ৪ থেকে ৫–এর মধ্যে। ১০টির উৎস ছিল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায়।

দেশের ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপান, নেপাল ও আফগানিস্তানের মতো বাংলাদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের খুব বেশি আশঙ্কা নেই। দেশের ভেতরে ৬ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার ঘটনাও খুব কম। দেশের বিশেষজ্ঞরা এ কথা অনেক দিন ধরে বলে আসছেন। অবশ্য রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর জন্য মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেও তাঁরা মনে করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞ মাকসুদ কামালের মতে, লক্ষ্মীপুরের ভূমিকম্পটি বাংলাদেশে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের বিপদ বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে দেশে সাধারণত ভূ–অভ্যন্তরের ফাটলরেখা বরাবর ভূমিকম্পের সৃষ্টি হওয়ার কথা জানা যায়।

কিন্তু লক্ষ্মীপুরসহ চলতি বছরের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো গভীর ভূত্বকের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের গভীর ভূত্বক এলাকাগুলোতে শক্তিশালী না হলেও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। ফলে সারা দেশে এ ধরনের মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের নতুন উৎসস্থলগুলো চিহ্নিত করতে হবে। উৎসস্থল চিহ্নিত করতে পারলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভবনগুলোকে ভূমিকম্প সহনশীল করে তৈরি করা, স্বেচ্ছাসেবক এবং উদ্ধার যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা যাবে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন