https://www.prothomalony.com/

18285

north-america

উত্তর আমেরিকা

বাফলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:২৭

"অনিবার্য কারণবশত বাফেলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কনস্যুলার সার্ভিস বন্ধ ঘোষণা করা হ'ল" — সোমবার রাতে ফেসবুকে এই ঘোষণা দিয়েছে কনস্যুলেট জেনারেল অব বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক। ফলে ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর বাফলোতে যে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট সেবা দেওয়ার কথা ছিল, তা হচ্ছে না।

কনস্যুলেটের পোস্টের গ্রাফিকে স্থানীয় আয়োজক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ ছিল 'ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক বাংলাদেশি সোসাইটি ইনক'-এর নাম, ভেন্যু ১৬২ কার্নস অ্যাভিনিউ, বাফেলো। একই গ্রাফিকে প্রথমবারের মতো ভ্রাম্যমাণ এনআইডি সেবার কথাও ছিল — অনলাইনে নিবন্ধন করে রেজিস্ট্রেশন স্লিপ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, এবার জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য প্রায় ছয় ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে নিউইয়র্ক সিটিতে আসতে হতো না বাফেলোর বাংলাদেশিদের।

ঘোষণার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। বাফেলোর বাংলাদেশি কমিউনিটির ফেসবুক পেজগুলোতে অনেকে জানতে চেয়েছেন — "কি কারণে বন্ধ হল জনগণের সেবা?" কেউ লিখেছেন, এই সেবার খুব প্রয়োজন ছিল তার।

মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বাফেলো বাংলার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, স্থানীয় সংগঠনের ভেতরে প্রায় ১২-১৩ জনের সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণেই এই সিদ্ধান্ত। বাইরের কাউকে না জড়িয়ে নিজেরাই পুনর্গঠনের কাজ করছেন; নতুন কমিটি গঠন শেষে সেবা আবার চালু হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সোমবার রাতেই বাফেলোর একটি হোটেলের পার্কিং লট থেকে লাইভে এসে দাবি করেন, কনসাল জেনারেল তাকে সম্প্রচার না করার জন্য হুমকি দিয়েছেন এবং মারধরের ভয় দেখিয়েছেন। তার ভাষ্য, গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চারবার বিনামূল্যে এই সেবা দিয়েছে তার সংগঠন। কিন্তু কিছু ব্যক্তি কনসাল জেনারেল ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ায় সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। পুলিশে দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৩৭০ মাইল দূরের বাফলোতে বহু বাংলাদেশির বাস। বছরে অন্তত দুবার ভ্রাম্যমাণ সেবা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন হাজারো প্রবাসী। তবে কনস্যুলেটের ঘোষণায় 'বন্ধ' শব্দ ব্যবহার করায় এবং পুনরায় চালুর কোনো সময়সীমা না থাকায় শিগগির সেবা ফিরবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন