https://www.prothomalony.com/
17879
new-york
নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী স্ট্র্যান্ড বুকস্টোরের তিনতলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাটা ছিল একেবারেই অন্যরকম এক সন্ধ্যা। টিকিট কেটে, বই কিনে তবেই ঢুকতে হয়েছে ভেতরে, অথচ সাতটা বাজার আগেই প্রতিটি আসন ভরে গিয়েছিল। শেষ হয়ে গিয়েছিল টেবিলে থাকা সব কটি বইও। যাঁরা একটু দেরিতে পৌঁছেছেন, তাঁদের বই ছাড়াই টিকিট হাতে ঢুকতে হয়েছে হলঘরে। এমন ভিড় ঠেলেই আত্মপ্রকাশ ঘটল পি. পারমিতার প্রথম উপন্যাস 'অ্যাপেটাইট'-এর।

ঘণ্টাখানেক ধরে লেখক হ্যালি জ্যাকবসনের সঙ্গে আলাপচারিতায় পারমিতা বলে গেলেন নিজের লেখক হয়ে-ওঠার গল্প। ঢাকার সানবিমস স্কুলের এক মেয়ে কীভাবে পাড়ি দিয়েছিলেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে, ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে এমএফএ করতে করতে কীভাবে জন্ম নিল জারিনা — তাঁর উপন্যাসের সেই চরিত্র, যে একজন বাংলাদেশি অভিবাসী, রেস্তোরাঁর রাঁধুনি, আবার রেসলিংয়েরও একনিষ্ঠ ভক্ত, আর যার স্বপ্ন বাংলাদেশের খাবারকে বাংলাদেশের নামেই তুলে ধরা এই আমেরিকায়। সাবলীল, নির্ভার কথামালায় পারমিতা যেভাবে বলছিলেন, তাতে হলঘর ভরা মানুষ হাসিতে-করতালিতে বারবার উষ্ণ হয়ে উঠছিল। যেন গল্পটা শুধু জারিনার নয়, একটু একটু করে সবারই।

দর্শকসারিতে ছিলাম আমরাও — আর ছিলেন পারমিতার বাবা আনিসুল হক ও মা মেরিনা ইয়াসমিন, মেয়ের এই মাইলফলক উদযাপনে। নিউইয়র্কের বাইরে থেকেও অনেকে এসেছিলেন সেদিন, এসেছিলেন প্রবাসের কিছু পরিচিত স্বদেশি মুখও। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে যখন পারমিতা পাঠকদের বইয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন, ততক্ষণে ডায়াল প্রেস (পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস) থেকে প্রকাশিত 'অ্যাপেটাইট'-এর সবগুলো কপি বিক্রি হয়ে গেছে বইঘরে — একজন প্রথমবারের ঔপন্যাসিকের জন্য যা নেহাত মন্দ সূচনা নয়।

অনুষ্ঠান শেষে নদী পেরিয়ে আমরা গিয়ে বসেছিলাম লং আইল্যান্ড সিটির হ্যালো বাংলাদেশ রেস্তুরায়। দেশি খাবারের টেবিলে। আলু ভর্তা, চিংড়ি, সবজি, দই-মিষ্টি সাজানো সেই আয়োজনে বিদেশি অতিথিরাও চেটেপুটে খেলেন সবটুকু। জারিনার স্বপ্নটাই সেই রাতে একটুখানি সত্যি হয়ে উঠল, বাংলাদেশের খাবার তার নিজের নামেই জয় করে নিল কিছু নতুন জিভ। স্ট্র্যান্ডের তিনতলা থেকে লং আইল্যান্ড সিটির খাবারের টেবিল পর্যন্ত — পুরো সন্ধ্যাটাই যেন হয়ে রইল পারমিতার লেখক হয়ে ওঠার উদ্যাপন। আমাদের জন্যও এক টুকরো গর্বের রাত।
অভিনন্দন, পি. পারমিতা।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন