https://www.prothomalony.com/
10474
bangladesh
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৪ ১১:১৮
বাংলাদেশের কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও অনেকের মৃত্যুতে সমব্যথী কলকাতার পড়ুয়াদের একাংশও। গত এক সপ্তাহে কলকাতায় শিক্ষার্থীদের অন্তত চারটি মিছিল বেরিয়েছিল বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও নানা কর্মসূচি হয়েছে বলে জানা গেছে।
২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার চারটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন কলকাতায় একটি মিছিলও করেছিল বাংলাদেশের ছাত্রদের প্রতি সংহতি জানিয়ে।
মূলত বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো এ নিয়ে মুখ খুললেও সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাও প্রতিবেশী দেশের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তবে বড় বামপন্থী পার্টিগুলো এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে না দিয়েছে কোনো বিবৃতি, না করেছে কোনো মিছিল।
কলকাতার ছাত্রছাত্রীরা বলছে তাদের ক্ষোভের কারণ মূলত দুটি। প্রথমত, বাংলাদেশের আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সময়মতো আলোচনায় কেন বসল না সেদেশের সরকার।
দ্বিতীয়ত, যে পদ্ধতিতে আন্দোলন দমন করা হয়েছে, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী প্রবেশ করেছে, তা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। ক্যাম্পাসে পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবেশ সবসময়ই কলকাতার ছাত্রছাত্রীদের কাছে অতি স্পর্শকাতর বিষয়। এর আগে, ২০১৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক মারধর করলে তার প্রতিবাদে ‘হোক কলরব’ নামের আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তা নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল।
বাংলাদেশের ছাত্র-মৃত্যু এবং তাদের ওপরে সহিংসতার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার যে চারটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন কলকাতায় মিছিল করেছে, সেগুলোরই অন্যতম অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসা।
সংগঠনটির রাজ্য সভাপতি ঋতম মাজি বলছিলেন, “এ ধরনের মিছিলগুলো আমরা করছি, কারণ আমরা মনে করি যে কোনও দেশে, বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর কোথাও যদি একটা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপরে এইভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনী আগ্রাসন চালায়, আক্রমণ চালায়, একের পর এক ছাত্র-যুব শহীদ হচ্ছেন, সেখানে আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য তাদের প্রতি সংহতি জানানো এবং একটা কর্মসূচি নেওয়া।”
তিনি বলছিলেন, “বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঠিক কী ভুল, সেটা নিয়ে আমরা এখান থেকে মন্তব্য করতে পারি না। ছাত্রদের এ নিয়ে দাবি তো সেই ২০১৮ সাল থেকে। কোনও দাবি উঠলে যে কোনও গণতান্ত্রিক, নির্বাচিত সরকারের তো এটাই যে প্রথম কাজ তা নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা। তা না করে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ছাত্রদের আন্দোলনটাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলো।”
সিপিআইএম দলের ছাত্র সংগঠন এসএফআই কেন্দ্রীয়ভাবে আগেই একটি বিবৃতি জারি করে ‘বাংলাদেশের আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ওপরে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
সংগঠনটির কলকাতা জেলা সভানেত্রী বর্ণনা মুখার্জী বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “বাংলাদেশের ঘটনাবলী নিয়ে ঠিক-ভুলের বিচার পরে হবে কিন্তু একটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপরে হস্তক্ষেপ কেন করা হলো? গণ জমায়েত করে, নিজের মত প্রকাশ করে কোনো বিষয়ে তার ভাব প্রকাশ করা, এটার মধ্যে তো কোনো অন্যায় নেই! কণ্ঠস্বর রোধ যেভাবে করা হয়েছে সেখানে, এসএফআই তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।”
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন