https://www.prothomalony.com/

10447

bangladesh

বাংলাদেশ

নি হ তে র সংখ্যা জানতে চান কূটনীতিকরা- পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৩:১৪

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন, তা কূটনীতিকরাসহ সবাই জানতে চান বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। নিহতের সংখ্যা নিরূপণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ২৪ জুলাই বুধবার কূটনীতিকদের ধ্বংসযজ্ঞের স্থান দেখানোর পর সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাস্তায় জাতিসংঘের লোগো সংবলিত গাড়ি ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের কোনো গাড়ি ব্যবহার হচ্ছে না। গাড়িগুলো জাতিসংঘ শান্তি মিশনে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সেই গাড়ির লোগো মোছা হয়নি। এখন সেগুলো মুছে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২৪ জুলাই ঢাকায় থাকা সব কূটনীতিক মিশনের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের ধ্বংসযজ্ঞের স্থান পরিদর্শনে নিয়ে যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ৪৯ মিশনের প্রতিনিধিরা এ পরিদর্শনে যোগ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ২৩ জন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এ কঠিন সময়ে অর্ধেক দিনের নোটিশে এতজন রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকের পরিদর্শনে যাওয়া সহজ বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তবে সূত্র জানায়, ধ্বংসযজ্ঞের স্থান পরিদর্শনের সময় জাতিসংঘের মনোনীত এক কূটনীতিককে থাকতে দেয়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘের সেই কূটনীতিকের নাম আনন্দ আলোকাবান্দারা, তিনি শ্রীলঙ্কার নাগরিক। তিনি ঢাকায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

২৪ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ধ্বংসযজ্ঞের স্থান পরিদর্শনে জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয় থেকে দু’জনকে মনোনীত করা হয়েছিল। এর মধ্যে থেকে কেন একজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা তারা সরকারের কাছে চেয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। 

ধ্বংসযজ্ঞের স্থান পরিদর্শনে জাতিসংঘের কোনো প্রতিনিধি ছিল কিনা– ব্রিফিংয়ে এর উত্তরে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী বাংলাদেশে নেই। অন্য কেউ গিয়ে ছিলেন কিনা, তা যাচাই করে বলতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ মিশনের সামনে বিক্ষোভ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওই বিক্ষোভে পাকিস্তানিরা যোগ দিয়েছিল। বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি এ বিক্ষোভ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। একইভাবে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশনের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। আর সেই দেশগুলোতে পাকিস্তানিদের সহায়তায় এ বিক্ষোভের আয়োজনে ছিল বিএনপি-জামায়াত। বিএনপি-জামায়াত পাকিস্তানিদের সহায়তা নিয়েছে। বিদেশে বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এগুলোর বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে।’

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ করার সময় বাংলাদেশিদের আটক করা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভ করার কারণে বাংলাদেশিদের আটক করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৪ জনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজনকে ১১ বছর ও বেশ কয়েকজনকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ড। একইভাবে আরও কয়েকটি দেশে গ্রেপ্তার ও দণ্ড দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, সেখানেও বিক্ষোভ করায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

আরব আমিরাত শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করেছে– খবরটি ভুল জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ভুল খবর ছাড়া হয়েছে। যাচাই না করে খবর প্রকাশ করা সমীচীন হয়নি। ইউএই রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেননি।

আন্দোলন ঘিরে কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আটক বাংলাদেশিদের ছাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তারের সংখ্যা জেনে বলতে হবে। দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ আইনে বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার করেছে ও শাস্তি দিয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন