https://www.prothomalony.com/

18375

bangladesh

বাংলাদেশ

বাংলাদেশি তরুণ উইন রোজারিও-হত্যায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা বিচারের কাঠগড়া এড়িয়ে অবসরে

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৫৭

যে অফিসারকে নিয়ে বিচার হওয়ার কথা ছিল, তিনি শেষ পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন না। এর কারণ কোনো আইনি কৌশল বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের নিজস্ব স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, একটি সামান্য অথচ বিধিবদ্ধ বিজ্ঞপ্তি পাঠাতে ভুলে যাওয়া। কুইন্সের ওজোন পার্কে ২০২৪ সালের মার্চে ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ উইন রোজারিওকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অফিসার সালভাতোর আলোঙ্গি অবসর নিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নাগরিক অভিযোগ পর্যালোচনা পর্ষদ (সিসিআরবি) অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দিয়েছিল।

বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো পুলিশ সদস্য অবসরের আবেদন করলে তা সিসিআরবিকে জানাতে হয়। যাতে পর্ষদ বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে। আলোঙ্গির ক্ষেত্রে সেই বিজ্ঞপ্তি কখনো যায়নি। বৃহস্পতিবার পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তাঁর ভাষ্য, "মানবিক ভুলের" কারণে পেনশন বোর্ড আলোঙ্গির অক্ষমতাজনিত পেনশন বিবেচনা করার আগে পর্ষদকে জানানো হয়নি। বিভাগ দায় চাপিয়েছে এক সিভিল কর্মীর ওপর, যাঁকে নাকি পদাবনতি দিয়ে শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

 কমিশনারের এই বিবৃতি এল রোজারিও পরিবারের সিটি হলের বাইরে সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টাখানেক পর। সেখানে ক্ষোভটা যতটা ছিল পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে, ততটাই (বা হয়তো তার চেয়েও বেশি) মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে। যাঁকে এই পরিবার একসময় নিজেদের মানুষ বলে ভেবেছিল। উইনের মা নোটন ইভা কস্তা সরাসরি মেয়রকে উদ্দেশ করে বলেন, মেয়র তাঁর বাড়িতে এসে ভিন্ন ধরনের মেয়র হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অথচ আজ তাঁরা প্রতারিত বোধ করছেন। তাঁর ভাষায় এটি "বিশ্বাসঘাতকতা", বিচার নয়। উইনের বাবা ফ্রান্সিস রোজারিও আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, এটি অবহেলা নয়, বরং পুলিশের উচ্চস্তরে পরিকল্পিত ধামাচাপা ও দুর্নীতি।

 আলোঙ্গি ২০২৫ সালের আগস্টে, ঘটনার এক বছর পাঁচ মাস পর এবং সিসিআরবির সিদ্ধান্তের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে, অক্ষমতাজনিত পেনশনের আবেদন করেন। সেপ্টেম্বরে টিশ দুই অফিসারকে শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগের নোটিশ দেন। ঠিক তখনই বিভাগের উচিত ছিল সিসিআরবিকে জানানো। যাতে পেনশন তহবিল আবেদনটি সাময়িক স্থগিত রাখতে পারে। তা না হওয়ায় সিসিআরবি জানতে পারে আলোঙ্গির অবসরের কথা গত আগস্টে। তাঁর শেষ কর্মদিবসের নয় সপ্তাহ পর। পর্ষদের মুখপাত্র ডাকোটা গার্ডনার ব্যর্থতা নিয়ে মন্তব্য করেননি। শুধু জানিয়েছেন অপর অভিযুক্ত অফিসার ম্যাথিউ সিয়ানফ্রোকোর বিচার "পরিকল্পনা অনুযায়ী" চলবে, যদিও কোনো তারিখ ঠিক হয়নি।

ঘটনার দিনটি, ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ, বডিক্যামের ফুটেজে ধরা আছে। মায়ের ফোনে সাড়া দিয়ে দুই অফিসার রান্নাঘরের দরজায় পৌঁছালে উইন কাঁচি তুলে নেন। আলোঙ্গি তখনই টেজার চালান। মা কাঁচিটি ছিনিয়ে চেয়ারে রেখে অফিসারদের কাছে গুলি না করার আকুতি জানান। তবু দ্বিতীয় টেজার-শট এল, উইন আবার কাঁচি তুলে এগোলেন, আর সিয়ানফ্রোকো একবার গুলি করে পরে আরও চারবার। পুরো ঘটনা দুই মিনিটের। রিপোর্ট অনুযায়ী উইন ঘটনাস্থলেই মারা যান। রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর পরে দুই অফিসারের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় কুইন্সের বাংলাদেশি খ্রিস্টান সম্প্রদায়, ড্রাম ও নাগরিক সংগঠক জুমানে উইলিয়ামসসহ অনেকেই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

প্রশ্নটা তাই শুধু এই নয় যে একজন কর্মী ভুল করলেন কি না। নিউইয়র্ক পুলিশ আলোঙ্গির পেনশন নিয়ে আলোচনায় যায়নি। অক্ষমতাজনিত পেনশনে সাধারণ পেনশনের ৫০ শতাংশের জায়গায় শেষ বছরের বেতনের তিন-চতুর্থাংশ মেলে। তা ১৮ মে পেনশন বোর্ডে অনুমোদিত হয়েছে। কোন কর্তব্যপালনকালীন ঘটনার ভিত্তিতে তাঁকে এই মর্যাদা দেওয়া হলো, বিভাগ সে প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। এখন থেকে দুই স্তরের নজরদারি চালু হচ্ছে। সিসিআরবির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকারী একজন সুপারভাইজার, আর বিভাগীয় অ্যাডভোকেট, যিনি ব্যক্তিগতভাবে পর্ষদকে জানাবেন এবং আবেদন স্থগিত করাবেন। যে ব্যবস্থা এতদিন ছিল না, তা কেবল একজন মানুষের ভুলের পর তৈরি হলো।

মামদানির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি ছিল সংকটে পড়া মানুষের কাছে পুলিশের বদলে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানো। ঠিক যে ধরনের সংকটে উইন রোজারিও ছিলেন। যে শহর বলেছিল সে মায়ের ডাকে অন্যভাবে সাড়া দেবে, সে কি এমন এক ব্যবস্থার ভেতরে আটকে আছে, যেখানে একটি ফাইল ঠিক জায়গায় না পৌঁছালে একটি জীবনের বিচারও পৌঁছায় না?

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন