https://www.prothomalony.com/
18209
north-america
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০৩
গত এক শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানের কাছে সম্পূর্ণ অজানা নতুন এক প্রজাতির বুনো বিড়াল শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। এর বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে টিলকায়ো টাইগার ক্যাট (Leopardus tilcayo)। সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী 'কারেন্ট বায়োলজি'-তে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন আবিষ্কৃত এই বুনো বিড়ালটি সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের চেয়েও আকারে ছোট। এদের দেহ বেশ পাতলা এবং গায়ে ছোপ ছোপ দাগ রয়েছে, আর কানগুলো গোলাকার। বলিভিয়ার ইউঙ্গাস অঞ্চলের ক্লাউড ফরেস্টে, যেখানে আন্দিজ পর্বতমালা আমাজন অববাহিকার সঙ্গে মিশেছে—সেখানেই এদের আবাস। গবেষণাপত্রের সহলেখক এবং 'বলিভিয়ান ফেলিড রিসার্চ অ্যান্ড কনসারভেশন প্রোগ্রাম'-এর প্রধান পাওলা নোগালেস-আস্কারুনজ জানান, তুলনামূলকভাবে বড় আকারের কোনো নতুন স্তন্যপায়ী প্রাণী খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তিনি বলেন, "এবার সম্পূর্ণ নতুন একটি বিড়ালের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সত্যিই অভিনব। গত ১০০ বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি। ইতিপূর্বে কেউ এর নামকরণ বা বর্ণনাও করেনি।" নোগালেস-আসকারুনজ সংরক্ষণবিদ হিসেবে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের অর্থায়নে কাজ করেন।
লা পাজের নিকটবর্তী 'সেন্ডা ভার্দে ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি' নামক একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে এই বিড়ালটির প্রথম নজরদারি করেন নোগালেস-আস্কারুনজ। স্থানীয় বনাঞ্চলের এক বাসিন্দা এটিকে সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের বাচ্চা মনে করে ভুলবশত ঘরে তুলে নিয়েছিলেন। এমনকি নুডলস, ভাত ও ডিম খাইয়ে সেটিকে বড় করার চেষ্টাও করেন। পরবর্তীতে প্রাণীটি বুনো প্রকৃতির বুঝতে পেরে তিনি সেটিকে স্যাঙ্কচুয়ারিতে দিয়ে যান। সেখানে আরও একটি একই ধরনের প্রাণী আসার পর সেগুলোর শারীরিক গঠন (বিশেষ করে ছোপ দাগ ও লেজের বৈশিষ্ট্য) দেখে নোগালেস-আস্কারুনজের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে জিনগত পরীক্ষায় দেখা যায়, এই বিড়াল দুটি অন্য সব টাইগার ক্যাটের প্রজাতি থেকে প্রায় ১৪ লাখ বছর আগেই আলাদা হয়ে গেছে। বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী এই জিনগত ব্যবধান এটিকে একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
বিজ্ঞানীরা প্রায়শই বিদ্যমান কোনো প্রজাতির জিনগত পার্থক্যের ভিত্তিতে নতুন উপপ্রজাতি বা বিভাজন দেখিয়ে নতুন প্রজাতির মর্যাদা দেন (যেমন ২০০৬ সালের বোর্নিওর সুন্দা ক্লাউডেড চিতা)। কিন্তু টিলকায়োর ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন; ইতিপূর্বে কোনো জাদুঘরে বা বিজ্ঞানের রেকর্ডে এর কোনো নমুনা সংগৃহীত ছিল না।
বিজ্ঞানের কাছে এটি প্রথম হলেও স্থানীয় বলিভিয়ান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাণীটি বহু প্রজন্ম ধরেই পরিচিত ছিল। স্থানীয়রা এটিকে 'টিলকায়ো' নামেই ডাকত। তাদের এই চিরায়ত লোকজ্ঞানকে সম্মান জানিয়ে বিজ্ঞানীরাও প্রাণীটির নাম পরিবর্তন না করে 'টিলকায়ো' নামেই নামকরণ করেছেন।
বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকায় মোট পাঁচটি টাইগার ক্যাট প্রজাতির অস্তিত্ব জানা গেছে। তবে নগরায়ণ ও কৃষিকাজ সম্প্রসারণের কারণে দ্রুত আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় টিলকায়োসহ এই অঞ্চলের সব বুনো বিড়ালই তীব্র অস্তিত্ব সংকটের মুখে রয়েছে।
প্রকৃতিতে বর্তমানে ঠিক কতটি টিলকায়ো টিকে রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, নতুন এই বুনো বিড়ালটি চরম বিপদের মুখে রয়েছে এবং প্রাণীটিকে রক্ষা করতে অবিলম্বে গভীর গবেষণা ও কার্যকর সংরক্ষণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন