https://www.prothomalony.com/

18208

north-america

উত্তর আমেরিকা

আমেরিকায় ৭% ছাড়াল মর্টগেজের সুদ: আবাসন বাজারে হতাশা

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০২

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজ ঋণের গড় সুদের হার চলতি সপ্তাহে বেড়ে ৭.২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রেকর্ড উচ্চতায় থাকা বাড়ির দাম। সব মিলিয়ে লাখ লাখ আমেরিকানের জন্য নিজের একটি বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দিনে দিনে আরও কঠিন ও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে মর্টগেজের সুদের হার নিম্নমুখী ছিল এবং ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তা কমে ৫.৯৯ শতাংশে নেমেছিল। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে, যা সার্বিক অর্থনীতিতে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড (মুনাফার হার) বাড়তে শুরু করে, যা মূলত মর্টগেজ সুদের হারকে সরাসরি প্রভাবিত করে থাকে।

এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ফেডারেল রিজার্ভ' চলতি সপ্তাহে তাদের মূল নীতিগত সুদের হার বাড়িয়েছে এবং চলতি বছর তা আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ফলে সার্বিক ঋণ গ্রহণের খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির গড় দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,২৯,১০০ ডলার, যা ইতিহাসের প্রায় সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। চড়া সুদের হার ও উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতাই পিছিয়ে যাচ্ছেন। গত এক বছরে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও বিক্রি চূড়ান্ত না হওয়া 'পেন্ডিং হোম সেলস' এর হার কমেছে ৪.৭ শতাংশ। 

অর্থনীতিবিদ ও রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের মতে, নিত্যপণ্যের অতিরিক্ত খরচ ও জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে চড়া মর্টগেজ রেট যুক্ত হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা আপাতত বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছেন। ক্রেতাদের জন্য একমাত্র ইতিবাচক দিক হলো বাজারে অবিক্রিত বাড়ির সরবরাহ বা ইনভেন্টরি বৃদ্ধি। আগস্ট পর্যন্ত বাজারে প্রায় ১৬ লাখ ২০ হাজার অবিক্রিত বাড়ি ছিল, যা বর্তমান বিক্রির গতি অনুযায়ী ৪.৯ মাসের সরবরাহের সমান। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ মজুদ। এর ফলে ক্রেতাদের জন্য দাম নিয়ে দরকষাকষির কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছে।

'এনবিসি নিউজ'-এর তথ্যমতে, পরিস্থিতির কারণে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খাচ্ছেন তরুণ ও প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীরা। বর্তমানে প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের গড় বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৪০ বছরে।

রিয়েলটর ডটকমের তথ্যমতে, গত বছর ৩৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ তরুণ নিজেদের বাড়ি কেনা বা ভাড়া নেওয়ার বদলে বাবা-মায়ের সঙ্গে থেকে গেছেন, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী ইয়ান সোহানের মতো অনেক তরুণ ক্রেতাই এখন হতাশায় ভুগছেন। তার পরিবার ও ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য উপযুক্ত একটি বাড়ির দাম উত্তর ভার্জিনিয়ায় শুরু হয় ৬ লাখ ডলার থেকে, যা তাদের পছন্দের এলাকা আর্লিংটনে প্রায় ১০ লাখ ডলারে পৌঁছায়। ফলে পছন্দের এলাকা ছেড়ে দূরে চলে যাওয়া অথবা দীর্ঘ সময় যাতায়াত করতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা।

একইভাবে ওয়াশিংটন এলাকায় বাড়ি খুঁজছেন জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আলেকজান্দ্রা ডিক্যান্ডিয়া এবং তার স্বামী এডওয়ার্ড শ্রম। কিন্তু পরিবর্তিত ও অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি বাড়ি কিনতে গিয়ে মাসিক কিস্তির মানসিক চাপে পড়ার ভয় তাদের তাড়া করে ফিরছে।

সার্বিকভাবে, লাগামহীন আবাসন ব্যয় ও বাড়তি সুদের হার মার্কিন মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজস্ব স্থায়ী ঠিকানার স্বপ্নকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন