বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২
নিউইয়র্ক -প্রথম আলো

ভ্রমণ

আলবার্টার পাহাড়ি ছাগল

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২২, ০৩:৩৩
শব্দটা বেশি কৌতূহলী করে তুলল। জীবনে অনেকবার কৌতূহল মিটাতে গিয়ে বিপদের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু পিছপা হইনি। এবারও তার মুখোমুখি হব। এটাই চিন্তা করে এগুচ্ছিলাম ধীর পায়ে। সন্তর্পণে। একটু একটু করে সামনে যেতেই দেখলাম, দুটো হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার প্রজাতির ভাল্লুকের তিন চার মাস বয়সী বাচ্চা। কিছূ একটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে টানা টানি করছে।  
 আরেকটু কাছে গিয়ে ছবি তুলার চেষ্টা করি। পায়ের নিচে শুকনো গাছের ডাল পড়তেই মড়মড়িয়ে ভেঙে যাওয়ার আওয়াজ হলো। ভাল্লুক ছানা দুটো ঘাড় ঘুরিয়ে আমায় দেখেই এক লাফে ছোট একটি গাছের মগ ডালে উঠে গেল। আমিও যত দ্রুত সম্ভব কিছূ ছবি উঠিয়ে নিলাম। কারণ মা ভাল্লুক আশপাশেই আছে। তাই আর বেশি এগোনোর চেষ্টা করলাম না।  
 সেখান থেকে সোজা জঙ্গলের ভেতরে আরও মাইল পাঁচেক হাঁটা। হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে আসছে দেখে উল্টো পথ ধরলাম। দুই একটা হরিণ পথিমধ্যে পড়েছিলো সামনে। কিন্তু ছবি ওঠানোর সুযোগ মেলেনি। এক দৌড়ে জঙ্গলের ভেতরে ওরা চলে গেল।  
গাড়িতে যখন ফিরলাম তখন সূর্যের আলো আবার ফুটে উঠেছে। মেঘলা ছিলো কিন্তু পরিষ্কার হয়ে গেল আকাশ।  ভাবলাম এখনো ঘণ্টাতিনেক হাতে আছে সূর্য নামার। তাই আরও ১০০ মাইল গাড়ি ছুটিয়ে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার লেক এমারেল্ডের দিকে ছুটলাম। পাহাড় কেটে প্রশস্ত রোড করা হয়েছে। তেমন গাড়ি নেই এদিকে।  তাই দ্রুত ছুটছিলাম। হঠাৎ পাহাড়ের কাটা অংশের মাঝে একটা মাউন্টেন গোট বা পাহাড়ি ছাগল দেখতে পেলাম। তাই তাড়াতাড়ি ছবি নিয়ে নিলাম। ছুটলাম লেকের দিকে পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছিল । লেকের কাছে যেতেই বুঝতে পারলাম লেক এর নামের মর্মার্থ।
এমারেল্ড পাথরের রঙের মতো লেকের নীলাভ পানি। তাই কিছুক্ষণ আশেপাশে ঘুরে ছবি উঠিয়ে নিলাম। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে ছুঁটলাম হোটেলের দিকে। ক্লান্তি লাগছিল, কিন্তু মুখে বিজয়ের হাসি। মাউন্টেইন গোট ও ভাল্লুকের দেখা পাওয়ায় কারণে।  হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম রাতের খাবারের জন্য। মাইলস্টোন রেস্তোরাঁতে ঢুকে ডিনার শেষে সোজা বিছানায়।
  সকাল সাড়ে ৬টায় ঘুম ভাঙতেই তাড়াতাড়ি ক্যামেরা গুছিয়ে নেই। গন্তব্য জেসপার স্কাই ওয়াক। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। ছুটলাম তার উদ্দেশে। যেতে যেতে ওদের কাছ থেকে যে এড্রেস নিলাম। সম্ভবত আমার শোনার কারণে ভুল কিছু লিখে ফেললাম। যখন গাড়ি নিয়ে জেস্পারের দিকে ছুটেছিলাম আর মাত্র ৪৭ মাইল বাকি গন্তব্যের। তখন রাস্তার বামপাশে স্কাইওয়াকে লোকজনকে হাঁটতে দেখলাম। সন্দেহ হলো। গাড়ি থামিয়ে ঝর্ণার পাশে দাঁড়ানো লোকজনকে জিজ্ঞেস করতেই ভুল এডড্রেস নেওয়ার জট খুলল। তাই ঝর্ণার দু'একটা ছবি তুলে আবার গাড়ি ঘুরিয়ে স্কাইওয়াক পার্কিং লটে গেলাম। গাড়ি রেখে প্রবেশ পাস নিলাম। তারপরে ওখানে যাওয়ার জন্যে নির্দিষ্ট বাসের অপেক্ষা।
একঘন্টা সময় হাতে। তাই উল্টো পাশেই কলম্বিয়া আইস ফিল্ড। ওখানে গেলাম হেটে হেঁটে। ঠিক আইস ফিল্ডে না। একটু দূরে থেকে আমার নাইকর ২০০-৫০০ লেন্স এর মাধ্যমে কিছু ছবি উঠিয়ে নিলাম। তারপর ফিরে এলাম বাসের পাশে। সময়মতো বাস এলো। ১০ মিনিটের রাস্তা। নামিয়ে দিয়ে বাস চলে গেল। আমরাও চললাম গেট পেরিয়ে। একটু একটু করে এগুতেই পাহাড় চূড়া। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ছয় হাজার ফুট ওপরে। পাহাড়  চূড়ার ও একহাজার ফুট ওপরে বুলেটপ্রুফ গ্লাসের তৈরি ডি শেইপের গ্লাস ওয়াক। বেশ ভয় জায়গায় নিচের দিকে তাকালে। মনে হয় শূন্যে হাঁটছি। অনেক পুরুষ নারীকে ভয় পেয়ে চিৎকার করতে দেখি।  
আবার এক ভারতীয় ফ্যামেলি গ্লাসের ওপর লাফাচ্ছিল। দেখে বেশ বিরক্তিই বোধ করেছি। মনে হয়েছে কষে একটা থাপ্পড় লাগাই। পরক্ষণে রাগ সংবরণ করে বলেছি, এইটা কী আদর্শ জায়গা লাফানোর? কথা শুনে ওরা বিরক্তি বুঝতে পেরে সটকে পড়লো। সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপের হাসি দিলো। তারপর মনযোগ দিলাম ছবি তোলায়।
বেশ কিছু ছবি নিলাম। দু'হাজার ফুট নিচে একটি বিশাল ঝর্ণা দেখলাম। তার ছবিও নিলাম। আকাশটা বেশ মেঘলা ছিল। যখন আমরা পার্কিং লটে ফিরলাম। আকাশ ভেঙ্গে হুড়মুড়িয়ে নেমে এলো বৃষ্টি। ক্লান্তি ছুঁয়ে যায় বৃষ্টির ধারায়। নীরবে বসে অনর্গল বৃষ্টি পড়ার আওয়াজ শুনার এক ইচ্ছে জাগে।
বাসার চালে বৃষ্টি পড়ার শব্দ শুনে অনেকবার আপ্লুত হয়েছি ভালোলাগায়। সেই কবে! আজ তো সবই স্মৃতি।  কেলগেরি ভ্রমণের শেষ দিন। পরদিন ফিরে যাব। আবার সেই রুটিন বাঁধা কাজ, গদবাঁধা জীবন। তুমুল বৃষ্টি বিমূর্ত হয়ে উঠে। বিষণ্ণ মনে বসে বরফের ওপর বৃষ্টির আধিপত্য দেখছিলাম। হারিয়ে যাচ্ছিলাম কোনো এক অজানা ভাবনায়। এ ভাবনাগুলোর বর্ণণা কেমনে দেয়া যায় , আমি জানি না। কে জানে, তাও জানি না ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মন্ট্রিয়লে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের গালা নাইট

কানাডায় বাংলাদেশ হেরিটেজ সোসাইটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ এহসানের ‘ভলেন্টিয়ার অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা প্রাপ্তি

কানাডা নেবে ১৪ লাখ ৫০ হাজার নতুন অভিবাসী

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

উদীচী কানাডা সংসদের ৪র্থ লোক উৎসব ও ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

একাত্তরের গণহত্যা, জাতিসংঘের স্বীকৃতির দাবিতে মন্ট্রিয়লে মানববন্ধন

হ্যালিফ্যাক্সে শারদীয় সোসাইটির দুর্গাপূজা উদযাপন

হ্যালিফ্যাক্সে ভারতের ঐতিহ্যবাহী ওনাম উৎসব উদযাপন

 
 
সম্পাদক: ইব্রাহীম চৌধুরী | Editor: Ibrahim Chowdhury