বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
নিউইয়র্ক -প্রথম আলো

দূর দ্বীপবাসিনী

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৪৮

সময় গেলে সাধন হবে না

দেখতে দেখতে নতুন বছরেরও উনিশ দিন পার হয়ে গেল। আজ ২০ জানুয়ারি। পাসপোর্ট অনুসারে আমার মায়ের জন্মদিন। গত বছর ডিসেম্বর থেকেই ভেবে রেখেছিলাম, আসছে বছর জানুয়ারিতে মা’র জন্মদিনটা ঘটা করে করবো। বলাতো যায় না, এমন সুযোগ হয়ত সামনে নাও আসতে পারে। 

তাছাড়া ইতিপূর্বে আমরা কখনও আমাদের মায়ের জন্মদিন পালন করা দেখিনি। কারণ আগের দিনে ঘটা করে জন্মদিন খুব কম পরিবারেই পালন করা হতো। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারে এসব ছিল বিলাসিতা। পুরুষের জন্মদিনই যেখানে পালন করা হয় না, সেখানে নারীর জন্মদিন পালন করাত দূর কী বাত। হিন্দু পরিবারগুলোতে কিছুটা রেওয়াজ থাকলেও মুসলিম পরিবারে এই রেওয়াজ গড়েই ওঠেনি। 

২০২০ সালের শুরুতে করোনা মহামারি আকারে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। নিউইয়র্কে অগুনতি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। নিউইয়র্ক হয়ে উঠেছিল করনোর অকুস্থল। অতিমারির রেডজোন। সদাজাগ্রত নগরীটি ঘুমন্ত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। তখন আমি, আমাদের পরিবারের একজন মানুষও কোভিড থেকে নিষ্কৃতি পাইনি। এমনকি আমার ৮০ বছর বয়সি মা-ও টানা ১০ দিন লং আইল্যান্ড জুইশ হাসপাতালে করোনার সাথে যুদ্ধ করেছেন। আমাদের সৌভাগ্য তিনি বেঁচে ফিরে এসেছেন। 

২০২১ এর জানুয়ারিতে মাকে নিয়ে গেলাম কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিন দিতে। দিনটি ছিল ১৯ জানুয়ারি। তরুণী নার্স হাসিমুখে এগিয়ে এলেন ভ্যাকসিনের সরঞ্জাম নিয়ে। আইপ্যাডে মার জন্মবৃতান্তসহ বাকি ইনফরমেশন চেক করতে করতে তার সুশ্রী মুখটি আরও হাস্যেজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলল, ‘ওয়াও! আগামীকাল তোমার ৮০তম জন্মদিন। হ্যাপি বার্থডে ইয়াং লেডি। হ্যাপি বার্থডে টু ইউ ডিয়ার সাজেদা!’

সে আমার দিকে ফিরে জানতে চাইল, ‘তুমি কি সাজেদার মেয়ে? নিশ্চয়ই খুব ঘটা করে তোমরা এবার সাজেদার জন্মদিন করবে? সে ৮০ বছর বয়সী একজন করোনাজয়ী বীর।সি ডিজার্ভ ইট!’

আমার মাথায় নার্স মিশেলের কথাগুলো গেঁথে রইল। মনে হলো, ‘অফকোর্স সি ডিজার্ভ ইট’।

পরদিন সেই প্রথমবারের মতো আমরা কেক এনে, মোমবাতি জ্বেলে আমাদের মায়ের জন্মদিন পালন করেছিলাম। কেক কাটতে গিয়ে মায়ের চোখ অশ্রুসজল হলো। তার গালের চিকচিকে আনন্দাশ্রু ধারা আমার দৃষ্টি এড়ালো না।  

সামান্য একটু অ্যাফোর্ড দিলেই আমরা একজন মানুষকে কত বিশাল আনন্দ দিতে পারি। অথচ আমরা তা জানি না। খেয়ালও করি না।আমাদের কালচারে এসব নেই। জন্মদিন, মা দিবস, বাবা দিবস আমরা শিখেছি পশ্চিমাদের কাছেই। তা নিয়েও কূটতর্কের অভাব নেই। 

আমরা বাঙালিরাই ব্যঙ্গ করে বলি, “ওদের ভালোবাসা শুধু লোক দেখানো। শুধুই কথার কচকচানি।” 

তাহলে আমাদের বাঙালির ‘ভালোবাসা’র স্বরূপটা কী? প্লিজ একটু বলবেন? না, সেই ভালোবাসা আপনি চর্মচক্ষুতে দেখতে পাবেন না। সাধারণ উপলব্ধিতে অনুভব করতে পারবেন না। শুনে আসছি, ‘ভালোবাসা’ নামক জিনিসটা নাকি একেবারে মর্মের গভীরে অবস্থান করে। সেই ভালোবাসা বুঝতে হলে আপনাকে আজন্ম অপেক্ষা করতে হবে। মর্মের গভীরে প্রবেশ করে অনুভব করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। ভাইরে, আমাদের জীবনে এত সময় কী আছে? এত্ত ধৈর্য কী সৃষ্টিকর্তা আমাদের দিছে? একটু ভালোবাসার কথা শোনার জন্য, একটু মুখের হাসি দেখার জন্য, একটা সামন্য ফুল উপহার পাওয়ার জন্য আমাকে চাতক পাখির মতো আজন্ম অপেক্ষা করতে হবে? একটা সহজ কথা সহজভাবে বলতে আমাদের এত্ত বাঁধে কেন? 

মহাজ্ঞানী লালন শাহ বলে গেছেন, “সময় গেলে সাধন হবে না।”

আমরা বাঙালি নারীরা হাজার বছর ধরে অপেক্ষা করি, প্রিয়তম মানুষের কাছ থেকে একটু ভালোবাসার কথা, একটু প্রশংসার কথা, একটু সামান্য উপহারের জন্য। কিন্তু বাইরে যেই মানুষটি কথার ফানুস ওড়ান, রাজা-উজির মারেন, উপহারের বন্যা বহান ঘরে এলেই তার অন্য মূর্তি। বড় অবহেলা। বড় হিসেব। তাতেই নাকি বাঙালি পুরুষের বীরত্ব বাড়ে।

যাইহোক, যা বলছিলাম। এবার ২৩ সালেও মায়ের জন্মদিনটা ঘটা করে করব ভেবে রেখেছিলাম। কিন্তু মা রয়েছেন জ্যাকসন হাইটসের বাসায়। আমি ব্রুকলিনে। মাঝখানে অথৈ সমুদ্র। সেই বিরোধের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আমার পক্ষে হয়ত আর কখনও সেখানে পৌঁছানো সম্ভব না। আমি জ্যাকসন হাইটসের বাসায় যাওয়া বন্ধ করেছি বেশ কিছুদিন হল। বলা যায় বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। সে ইতিহাস লিখবো কি লিখব না এসব নিয়ে মনের ভেতরে এখনও ঘুণপোকার কাটাকাটি চলছে। অতিচেনা মুখগুলো অচেনা হওয়ার গল্প, রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলোর বদলে যাওয়ার গল্প লিখতে গেলে নিজের হৃদয়েও রক্তক্ষরণ  হবে সন্দেহ নাই। হয়ত এমনি কোন গভীর দুঃখ বুকে পুষে বিষন্নতার কবি জীবনানন্দ বলেছিলেন, “কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে।” গার্বেজ ঘাঁটলে তা’ থেকে শুধুই গন্ধ ছড়ায়। কিছু প্রাপ্তির সম্ভাবনা শূন্যই থেকে যায়। সময়ই বলে দেবে। কখনও হয়ত লিখব। কিংবা অলিখিতই থেকে যাবে সেইসব অসহনীয় বেদনার কথা! 

জ্যাকসন হাইটস ছেড়ে কনী আইল্যান্ডের বাসায় ওঠার পর একটা জিনিসই আমার মাথায় কাজ করছে। জীবনটাকে আর কখনও সিরিয়াসলি নেব না। খুব হাল্কাভাবে নিতে হবে। যেটুকু আনন্দের, যেটুকু মজার, যেটুকু স্বস্তির শুধু সেটুকুই নেব। জীবনের বাকিসব তিক্ত অংশটুকু থেকে, ছিদ্রান্বেষণ করা মানুষগুলো থেকে দূরত্ব বজায় রাখব। যারা বার বার আঘাত করেছে, তাদেরকে আরও বেশি আঘাত করার সুযোগ দেয়া ঠিক হবে না। কারণ দিন শেষে আমি শুধুই ‘আমি’। নিজেকে অন্যের অহেতুক রোষানল, আক্রমণ থেকে বাঁচাতে হবে। ‘ডোন্ট এলাউ এনিওয়ান টু স্টিল ইউর পিস’—এটুকু ঠকে এবং ঠেকে শিখেছি; নিজের মনের শান্তি হরণ করার সুযোগ কাউকে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ না। 

পরিকল্পনা মতো মায়ের জন্মদিন পালন করা হলো না। মনের আবেগ ঢাললাম, ফেসবুকের টাইমলাইনে। লিখলাম “আজ আমার মায়ের জন্মদিন” নামে একটি সচিত্র দেয়াল লেখনী। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, দুই শতাধিক মানুষ মাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্ষুদে-বার্তা দিয়েছেন। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, শুভকামনা জানিয়েছেন আমার ফেসবুক বন্ধুরা, পরিচিতজনরা। আমি সত্যিই আপলুত হয়েছি। এটাও কম অর্জন নয়। আমি কখনও দু’শ’ মানুষকে নিমন্ত্রণ করে মায়ের জন্মদিন পালন করতে পারতাম না। কিন্তু ফেসবুকের কল্যাণে মায়ের জন্য তাদের শুভাশীষ তো পেয়েছি।

আমার মা জন্মেছেন বৃটিশশাসিত অখণ্ড ভারতবর্ষে। তৎকালীন পূর্ববাংলায়। বিক্রমপুর পরগনায়। কলমা গ্রামের পাঠান বাড়িতে। তার বাবার নাম আব্দুল হাই পাঠান। দেখতে ছিলেন পাঠানদের মতোই অত্যন্ত সুপুরুষ। বলিষ্ঠ। ছিলেন পুরো গ্রামের পুরোধা! 

এইসব তথ্য ঠিকই আছে। যথার্থ। কিন্তু গোল বেঁধেছে মায়ের জন্ম তারিখ নিয়ে। আসল তারিখটি সময়ের সাথে সাথে কোথায় হারিয়ে গেছে। মা নিজেই মনে করতে পারেন না। আর যারা মনে করে দিতে পারতেন তারাও কেউ আর নেই। 

সেই প্রতাপশালী পাঠান পরিবারের বয়োজেষ্ঠদের কেউই এখন আর এই ধরাধামে নেই। আমার মায়ের সমসাময়িকরা অনেকেও নেই। যারা হয়তো হিসেব করে দিন, ক্ষণ, মাস, বছর বলে দিতে পারতেন। 

সম্ভবত মা যখন লন্ডনে তার সেজকন্যা ‘সালমা জামানের বাড়ি বেড়াতে যাবেন বলে ঠিক হলো তখন তড়িঘড়ি করে কেউ ফর্ম ভরে পাসপোর্ট বানিয়ে দিয়েছিল। আনুমানিক একটা হিসেব কষে বয়সের ঘরটি পূর্ণ করেছিল। 

তবে মা যে চল্লিশের দশকে জন্ম নিয়েছেন তাতে অবশ্য সন্দেহ নেই। নানা প্রমাণ, উপাত্ত তাই বলে। পাসপোর্টের “সাজেদা জামান” নামটি নিয়েও এই পাঠান কন্যার ঘোরতর আপত্তি আছে। স্বাধীনচেতা পাঠান কন্যা বহুবারই অনুযোগ করেছেন, তার অনুমতি না নিয়েই নাকি তার “পাঠান” পদবি কর্তন করে লেজুড় হিসেবে স্বামীর নাম “জামান” লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। 

বয়স কম ছিল বলে আগে মা’র এই অভিযোগ আমরা কানে তুলিনি। বরং খুব হাসতাম। ভাবতাম, তা কেন? আমরাতো জামান সাহেবেরই পরিবার। আমরা সবাই ‘জামান’। মা কেন আলাদা নাম বহন করবে! 

কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনুভব করলাম, ঠিকইতো! মা অন্য একটি পরিবার থেকে এসেছেন। তার একটা জন্ম পরিচয় আছে। বংশ পরিচয় আছে। পারিবারিক ঐতিহ্য আছে। সর্বপরি নিজস্ব স্বাধীনতা আছে। সে কেন আরেক জন মানুষের আইডেনটিটি নিয়ে ঘুরবে। স্বামী হলেও তারা দুজন আলাদা মানুষ। আলাদা ব্যক্তিত্ব, আলাদা বংশ, আলাদা রক্তপ্রবাহের মানুষ। 

আমি যেমন আমার বাবার মেয়ে। মায়েরও মেয়ে।আমি মনে করি আমার নামে বরং মা এবং বাবা দুজনেরই লাস্ট নেইম বা পদবি থাকা জরুরি ছিল। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বলেই আমাদের সমাজে এই প্রথাটি নেই। আজকাল অবশ্য অনেককে দেখি, মা-বাবা দুজনেরই লাস্ট নেইমটি বহন করতে শুরু করেছে। আমার মনে হয় এটাই যুক্তিসঙ্গত। এমনটাই হওয়া উচিত। একটি শিশুর জন্মের সাথে দু’জন নারী পুরুষ সম্পৃক্ত থাকেন। সুতরাং শিশুটি দু’জনেরই আইডেনটিটি বহন করে। শিশুটির নামকরণের বেলায়ও এই দুটো মানুষের আইডেনটিটি থাকার কথা। 

আমি নিজে যুক্তি-সঙ্গত কারণেই আমার পিতার পদবি বহন করে চলেছি। যদি সুযোগ থাকত তাহলে মাতার পদবিটিও ধারণ করতাম। বাট ইটস টু লেইট ফর মি! ইচ্ছে করলে এই নিয়মটি সবাই নিজ পরিবারে চালু করতেই পারেন। 

একটা ফানি ব্যাপার লক্ষ্য করার মতোই। দেশে থাকতে কখনও সেভাবে নজরে না পড়লেও বিদেশে এসে ব্যাপারটা খুব নজডর কেড়েছে। আমাদের দেশের অনেক মানুষের জন্ম-তারিখ বছরের শুরুতে। অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে। কারো কারোটা আরও সোজাসাপ্টা। একেবারে জানুয়ারির ১ তারিখে। 

মার্কিনিরা আমাদের দেশের মানুষের এই গণহারে ১ জানুয়ারি জন্মদিন নিয়ে রঙ্গ-রসিকতা করতে ছাড়েন না। তারা অনেকেই হাসতে হাসতে বলেন, “মনে হচ্ছে তোমাদের দেশে একটি নির্দিষ্ট প্রজনন ঋতু রয়েছে। সেই ঋতুতেই ঋতুবতী নারীরা গর্ভধারণ করেন! এবং তাদের গর্ভস্থ সন্তানরা জানুয়ারিতে জন্ম নেয়!” মজা করার এই ব্যাপক বিনোদনটি বেশিরভাগই পান এখানকার ডাক্তার এবং আইনজীবীরা। 

তবে সামনে এমন দিন আসবে বা এসেও গেছে যখন আমাদের নতুন প্রজন্মের বাচ্চারা অবাক হয়ে ভাববে, “কী আশ্চর্য! জন্ম তারিখ কী করে ফেইক হয়?“

যাহোক, আমার মায়ের জন্মদিনটা ফেক হলেও তার প্রতি আমাদের ভালোবাসা অকৃত্রিম। প্রতিদিনের। বিশেষ দিনটি পালনের সুযোগ আছে বলেই ভালোবাসা প্রকাশের, শুভকামনা জানানোর সুযোগটা আমরা পাই। 

“শুভ জন্মদিন মা! তোমার জন্য অজস্র ভালোবাসা!” ‘ভালোবাসি’ এই কথাটা বলা যে কতটা জরুরি, এটা শিখতেও আমাদের একশ বছর লেগে গেছে। কারণ, পশ্চিমারা যা কিছুই করে তার ঢেউ আমাদের দেশে পৌঁছাতে প্রায় একশ বছরই লেগে যায়। আমরা এতটাই দূরে, এতটাই পিছিয়ে।

জন্মনিবন্ধন বা বার্থ-সার্টিফিকেটের কথাটাই ধরা যাক। আমাদের মায়েদের যুগে, আমাদের যুগে জন্মনিবন্ধনের সুযোগ থাকলে ভুয়া জন্মদিন এবং নাম পরিবর্তনের এই হেঁসেল আমাদেরও থাকত না।আমরা কারও কাছে হাসির পাত্রও হতাম না। নবজাতকের একটি নাম, জন্ম-তারিখ ও জাতীয়তা  নিশ্চিত করতে জন্মনিবন্ধন হচ্ছে প্রথম আইনগত ধাপ। এটা শিশুর প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। রাষ্ট্র শিশুটিকে স্বীকার করে বলবে, ‘তোমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নাগরিক অধিকার দেয়া হলো।’ রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি শিশুকে স্বাগত জানাতেও আমরা সেই একশ বছরই দেরি করে ফেলেছি।

উনিশ শতকে পশ্চিমা বিশ্ব যখন জন্মনিবন্ধন শুরু করেছিল আমরা তখন এর প্রয়োজনীয়তা এবং তাৎপর্য ধরতেই পারিনি। আমাদের দেশে যখন এর ঠেঁউ এসে পৌঁছল, ততদিনে এক থেকে দেড়শ বছর চলে গেছে। অবশেষে ২০০১ সালে দেশে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে গত ২০ বছরেও একটি কার্যকর জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। 

যেহেতু আমাদের মা-বাবাদের, আমাদের নিজেদের, এমনকি আমাদের সন্তানদেরও জন্মনিবন্ধন করা হয়নি, তাই একুশ শতকে জন্ম নেয়া নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন করতে গেলে সেই গোড়া থেকে অর্থাৎ পেছনের দুই জেনারেশনের জন্মনিবন্ধন দিয়েই শুরু করতে হয়। কারণ সদ্যজাত শিশুর নিবন্ধনের সময় তার পিতা-মাতার জন্মনিবন্ধন পাওয়া যায় না। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়। সময় ক্ষেপণ হয়।

আশার কথা হলো, এখন ইউনিসেফের সহযোগিতায় নিবন্ধন শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকরিতে নিয়োগ, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নানা ক্ষেত্রে জন্মসনদ প্রয়োজন হচ্ছে। 

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের শুদ্ধ ডাটাব্যাজের মাধ্যমে ‘ফ্যামিলি-ট্রি’ আন্তর্জাতিকভাবে বহু আগে শুরু হলেও বাংলাদেশ এটি সদ্যই গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতিতে পারিবারিক কাঠামো তৈরি, উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা সহজ হবে। বিশেষ করে অনৈতিকভাবে বয়স, নাম এবং অন্যান্য তথ্য পরিবর্তনের প্রবণতাও রোধ হবে। 

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মা-বাবাই এর গুরুত্ব বোঝেন না। কীভাবে জন্ম নিবন্ধন করতে হয় সে বিষয়েও জ্ঞানের অভাব রয়েছে। সাধারণত ছেলে-মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করার সময়ই তারা বয়স এবং আসল নাম কী হবে তাই নিয়ে ভাবতে বসেন। আমরা অনেকেই জীবনে বহুবার নাম বদল করেছি। উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে সেশন জটের কথা মাথায় রেখে জন্ম তারিখ বদল করাও আমাদের দেশে হরহামেশাই ঘটেছে। 

কেবল বিদেশে এলেই আমরা নাম নিয়ে বিভ্রাট, জন্ম তারিখ নিয়ে নানা বিভ্রাটে মোকাবিলা করি। যা অন্যের ভ্রূকুঞ্চিত করে!

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

দ্য মার্ক টোয়েন হাউজ এন্ড মিউজিয়াম

উত্তরের সাহিত্য

দি ওয়াটার বয় 

এ সম্মাননা রিতার যোগ্যতার যথার্থ মূল্যায়ন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আমি তার গুণমুগ্ধ পাঠক

বঙ্গবন্ধুর জীবনের শ্রেষ্ঠ দলিল

একুশের বইমেলায় দর্পণ কবীরের দুটি বই

উত্তরের জনপদ 

 
 
সম্পাদক: ইব্রাহীম চৌধুরী | Editor: Ibrahim Chowdhury