বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২
নিউইয়র্ক -প্রথম আলো

উত্তরের সাহিত্য পাতা

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ২০:০৬

ছাতা মাথায়

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

সবাই

ডানদিকে তাকালো

আমি বাঁদিকে

চোখ

কিছু একটায় আটকালো

একটা বিন্দু

একটা ফুটবল

একটা পাহাড়ও হতে পারে

যাই হোক

একটা খাবার

কেউ একটা কামড় দিল

কেউ কাছে এনে মুখ বেঁকালো

কেউ মুহূর্তে হাওয়া করে দিল

যাই হোক, রোদ্দুর

ছাতা মাথায়

সব আবছা

স্বৈরাচারের বৃত্তে বন্দী

খ্রীষ্টফার পিউরীফিকেশন

গ্যালিলিও তুমি স্থির হও।

তোমার মস্তিষ্কে আলোড়িত হোক

অন্য এক ভিন্ন চিত্র

যা তোমার শিক্ষা ও গবেষণালব্ধ

প্রমাণকে প্রতিষ্ঠিত করে না।

তুমি বিশ্বকে জানান দাও,

লিখে দাও প্রত্যয় নিয়ে,

না। পৃথিবী নয়। সূর্যই ঘুরছে!

তাই আমি গ্যালিলিও

সবকিছু বাদ দিয়ে,

স্থির হয়ে আছি।

স্বৈরাচার তোমাদের কথাই ঠিক।

মহাশ্বেতা

সুয়েজ করিম

মহাশ্বেতা -

তুমি আছো অনিন্দ্য চন্দ্রাবতীর দেশে

শরতের প্রমোদ রোদের নিবিড় আলিঙ্গনে ,

জ্যোৎস্নাবিলাস বিকিনি পরা রাতে

মহাকাশের হিলিয়ামে তারা ফোটা ধূলি পথে

আমার বেদনা থেকে আলোকবর্ষ দূরে...

ভুলতে পারি না তোমার মায়ার প্রীতির সমুদ্দুর;

ঢাকতে পারে না স্মৃতির রশ্মি শূন্যের কালো মেঘ,

বুকের ভেতরে সাত সাগরের বিদ্রোহী লাল ঢেউ

কাশের কাফনে সেলাই করা নির্ঘুম নীল রাত

তোমাকে পাওয়ার চক্রব্যূহ হাক,

হৃদমহলে সন্ধ্যা নামার ডাক।

 

ভয়

কাজী দীন মুহম্মদ

রাত চারটা। আমাকে একা জাগিয়ে রেখে

ইট সাজানো ধাতব শব্দের সাথে প্রেমে মশগুল হয় অস্থির সময়

শৈবাল ভাই, আপনাকে দেয়ার মত পাল্টা যুক্তি আমার ছিল না

তবু ভেতরে ভেতরে পুড়ে যাওয়ার উত্তাপে আপনার ‘সর্বজ্ঞ মাস্টারমাইন্ড’

যদি সামান্যও তপ্ত হয়, তবে পৃথিবীর এইসব অন্যায্য ঝাঁপি

একদিন ঠিক ঠিক খুলে যাবে, এই আশাবাদ ছাড়া একজন কবি’র আর কী ই বা থাকে

প্রিয়তমা, তোমার হাতের তালুতে গোপনে লুকিয়ে রাখো

আমার শীতল যৌনাঙ্গ। আমাকে ছেড়ে যাওয়ার আগে

এক বারের জন্য হলেও মনে করো

তোমার পায়ের পাতায় কী আবেশে আমি চুম্বন করতাম ভয়ার্ত সমস্ত রাত জুড়ে।

তোমার বিষাদ নীলে ডুবেছিলাম

হাসনাইন সাজ্জাদীর

মাছরাঙা জলে ভাসছে আকাশ

ডুবছে নীলপদ্ম

ভাঙছে ঢেউ কিশোর বেলা

ধূসর গোধূলি সাগর তল জুড়ে

বিলি কাটা চুলে ঝুলছে শিশির

দিনের পর দিন

ভাঙে না এখন আর নদী পাড়

আগের মত

সবুজের মধ্যে একেকটা লাল ঘোড়া

ছুটে বেড়ায় অবিরাম

তেজি খেলার ভেতর হারিয়েছে বন-বনানী

অনেক পথের এখনো হয়নি শেষ

সমাপ্ত হয়নি এখনো অনেক খেলা

এবার উড়োজাহাজ হবো আমি

তোমার বিষাদ নীলে ডুবেছিলাম

দীর্ঘ যাত্রায়...।

কোথাও কোনো দুঃখ নেই

আবদুল বাতেন

কষ্ট কেনাবেচা, অবিরাম! ধেয়ে আসে চোখের পানির প্লাবন।

ধেয়ে আসে পরাজয় পুঁজের পাহাড়। অসহ্য আর্তনাদ,

বিরান বুকে

প্রিয়তা, তবু তোমার মায়ালাগা মুখের দিকে তাকালে মনে হয়- পৃথিবীতে কোথাও কোনো দুঃখ নেই।

ঠোঁটে ঠোঁটে মিথ্যার মধু, জিহ্বা জুড়ে অতৃপ্তির উদ্যান।

দৃষ্টির দুনিয়ায় লাভার নগ্নতা অপ্রেমে অঙ্গার কত হৃদয়, প্রতারণার পাঠে নিমগ্ন

তবু তোমার অধরের অমৃত শুষতে শুষতে মনে হয়-

মহাবিশ্বের সর্বত্র শান্তির সুবাতাস।

জয়োল্লাস যুদ্ধের, মানুষ হত্যার মিছিল, কসাইের জন্য পুরস্কার ও পদোন্নতি

জীবন যখন জীবাশ্ম, অসুখ ও অনাহারে, দহন ও দূষণে, শোষণে ও নির্যাতনে

তবু তোমার পায়ের নিচে বেঁচে থাকা বিছিয়ে মনে হয়-

শ্বাসরোধে মারা পড়াও পরম সৌভাগ্য ও সুখ আমার।

সভ্যতার কারিগর

বিচিত্র কুমার

কাঠফাটা রৌদ্রে জ্বলেপুড়ে চামড়া

দিন রাত কাজ করে স্বপ্নচারীরা,

মুষ্টিবদ্ধ শত হাতে কত তার জীবিকা

গড়ে তোলে স্বপ্নের পৃথিবী অট্টালিকা।

দুর্বোধ্য পথে থামা নেই মৃত্যুর ভয় নেই

ওদের হাতুড়ি কাস্তের ক্ষয় নেই ক্ষয় নেই,

যুগে যুগে ওরা বিলিয়ে দিচ্ছে যৌবন আত্মা

শুধু এই ক্ষুধার্ত পৃথিবীকে দিতে সুখের বার্তা।

 

মীরা আমার বোন

শেখ জলিল

পূর্ণিমা রাতের চাঁদ। আমি হাঁটি। চাঁদটাও হাঁটে আমার সাথে। মাঝে মাঝে ঘাড় বাঁকিয়ে দেখি চাঁদ মুখ। আমি থামি চাঁদটাও থামে আমার পাশে। বাঁশবাগানের ঠিক মাথার উপর চাঁদটা স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। আমার মনে পড়ে মীরার কথা৷ আমি যখন চাঁদ দেখি মীরার মুখ দেখি। মীরা আকাশের ঐ চাঁদ হয়ে গেছে বছর দুয়েক আগে। তবে ভরা পূর্ণিমার রাতে সব সময় সে আমার সাথে থাকে। আমি কখনও মীরাকে হারাই না।

গাঁয়ের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে লৌহজং নদী। এ গাঁয়ে হিন্দু-মুসলিমের বাস সমান সমান। গাঁয়ের পূব পাশে আছে শৈল্লা বিল। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা বিল থেকে খইরঙা হাঁসগুলো নিয়ে ছলিম চাচার দুই মেয়ে হাসি-খুশি বাড়ি ফেরে। এক তলা ছনের মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে কলিম চাচা মাগরিবের আজান দেয়। হিন্দু বাড়ি থেকে ভেসে আছে উলু ও শঙ্খের ধ্বনি। আমরা নিমগ্ন হয়ে যাই যার যার প্রার্থনায়। আমাদের সমস্যা হয় না কোনও। অনেক বছর ধরে আমাদের এই গ্রামে চলছে সুখ-শান্তির বসবাস।

খুব ছোট্ট গ্রাম চরপাড়া৷ তবে এ গ্রামে আছে অনেক শ্রেণীর মানুষ৷ হিন্দুদের মধ্যে কৈবর্ত ও দাস সম্প্রদায় বেশি৷ আছে তিন ঠাকুরের পরিবার৷ মুসলমানদের মধ্যে আছে শেখ, খান ও মিয়া বংশের লোক৷ তবে কৈবর্ত বা জেলে বেশি থাকার কারণে অনেকে একে বলে জেলেপাড়া৷ আবার স্থলভাগ উঁচু হবার কারণে পাশের খায়েরপাড়া গ্রামের লোকজন একে বলে টানচরা৷ এই টানচরাতেই খায়েরপাড়া প্রাইমারি ও হাই স্কুল অবস্থিত৷ এই দুই স্কুলে আমার সহপাঠী ছিলো মীরা৷ সেই মীরা আজ দূর আকাশের চাঁদ৷

শিক্ষিতের দিক থেকে চরপাড়া অন্যান্য গ্রাম থেকে এগিয়ে৷ এই গ্রামেই আছে কলেজ প্রিন্সিপাল, এমবিবিএস ডাক্তার, হাই স্কুলের হেড মাস্টার, নৌবাহিনী অফিসার, ব্যাংকার, কৃষি অফিসার, প্রাইমারি হেড মাস্টার ও অন্যান্য চাকুরিজীবি লোকজন৷ আমাদের ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবাই শিক্ষিত৷ এলাকায় শিক্ষিত পরিবার হিসেবে আমাদের বেশ সুনাম আছে৷ আমার বাবা প্রথম জীবনে কৃষিকাজ করলেও এখন করেন মসজিদের ইমামতি৷ তাঁর দিন কাটে ধর্মকর্ম করে ও চরপাড়া বাজারে আড্ডা দিয়ে৷

এই গ্রামে সংস্কৃতচর্চাও হয় তুখোড়৷ প্রতি রাতে আসর বসে পালা গল্পের৷ দাতা হাতেম তাই, বানেছা পরি, সাত ভাই চম্পা, বেহুলা- লক্ষিন্দর-এর শোনা যায় পুরো অগ্রহায়ণ মাস জুড়ে৷ চরপাড়া কালী মন্দিরের সামনে বসে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা৷ সে মেলায় প্রতি বছর হয় কবির লড়াই৷ আর বিএসসি সাহেবের পরিচালনায় উন্মুক্ত মঞ্চে হয় নাট্যাভিনয়৷ সে মঞ্চে অভিনীত হয় সোহরাব-রুস্তম, নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা, রাজা হরিশচন্দ্র, প্রেমের সমাধি তীরে প্রভৃতি নাটক৷ মাসব্যাপী রাত জেগে রিহার্সেল চলে সে সব নাটকের৷

মীরাদের বাড়ি পাড়াগ্রাম৷ লৌহজং নদী ঘেঁষে চরপাড়ার ঠিক উত্তর পাশে এটি অবস্থিত৷ এ গ্রামেও হিন্দু-মুসলিমের বসবাস৷ তবে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ৷ একমাত্র ভুঁইয়া বাড়ি ছাড়া অন্য মুসলমানদের চেয়ে হিন্দুরা প্রতিপত্তিশীল; শিক্ষাদীক্ষায়ও এগিয়ে তারা৷ পাড়াগ্রামের কালীপুজোর অনুষ্ঠান অত্র এলাকায় বেশ নামডাক৷ চড়ক মেলা হয়; প্রতি বছর যাত্রাপালা হয় সে সময়৷ আমি সন্ধ্যার আগেই মীরাদের গ্রামে চলে যাই৷ মীরার দাদা ও অন্যান্য বন্ধুদের সাথে যাত্রা দেখি৷ লোকে বলে 'যাত্রা দেখে ফাত্রা লোকে'; তবু আমি যাই মীরাদের গ্রামের যাত্রা দেখতে৷

মীরা আমার শৈশবের সহপাঠী, মীরা আমার বোন৷ একসাথে পড়াশোনা করে ও খেলাধুলা করে আমাদের কেটে গেছে অনেকগুলো স্বর্ণালি বছর৷ হাইস্কুলে উঠে যখন আমার স্কুল বদল হয় তখন থেকেই মীরার সাথে আমার বিচ্ছেদ শুরু৷ তবুও বাড়িতে এলে মীরাদের সাথে দেখা হতো৷ পাড়াগ্রামের মীরা, রোকেয়া, ভারতী, স্বরস্বতী ছিলো আমার ক্লাসমেট৷ আমরা সবাই একসাথে ছিলাম নাড়ির বন্ধনে, শেকড়ের টানে৷

কলেজ জীবন শেষে আমি মেডিক্যালে ও মীরা নার্সিং-এ ভর্তি হয়৷ পড়া শেষে দুজনেরই শুরু হয় কর্মজীবন৷ মীরা মধ্যপ্রাচ্য ঘুরে স্বদেশে, আমি দেশ ছেড়ে কানাডায়৷

এই পরবাস জীবনের করোনাক্লান্তিতেও মীরার সাথে ফোনে, মেসেঞ্জারে কথা হতো মাঝে মাঝে। ফেসবুকের কল্যাণে অনেক বছর পর ওকে খুঁজে পেয়েছিলাম আবার। ও কথা বলতো প্রাইমারি স্কুলের বন্ধু কাতার প্রবাসী মঞ্জুর সাথে, হাইস্কুল জীবনের বন্ধু অস্ট্রেলিয়া নিবাসী জুলহাসের সাথে। ছোট্টবেলার অনেক বন্ধুদের সাথে মীরার হয়েছিলো পুনরায় যোগাযোগ৷

শেষবার যখন মীরার সাথে কথা হলো ও আমার সাথে বললো- হাসপাতালে কাজ করি তেমন প্রোটেকশন ছাড়া। বাঁচি কি মরি তাই ছোটবেলার বন্ধুদের সবার সাথেই কথা বলছি আজকাল। আমার স্ত্রীর সাথেও আলাপ করিয়ে দিলাম। স্ত্রীকে ও বললো আমারই কথা- জলিল কিন্তু খুব মেধাবী। আমাদের এলাকার গৌরব ও। একটু বেখেয়ালি স্বভাব আছে কিন্তু মনটা খুব ভালো। ওকে দেখে রাখবেন ভাবী। পাশ থেকে সব শুনলাম আমি। এই ছিলো আমার প্রতি মীরার ভালোবাসার টান। কেমনে মেনে নেই সেই প্রাণপ্রিয় বান্ধবীর অকাল মৃত্যু?

করোনা আক্রান্তের খবর পেয়ে চেষ্টা করি আমি ওকে ফোনে পাওয়ার- পাইনি। মনে হয় ওর হাজবেন্ডও ব্যস্ত ছিলো ওকে হাসপাতালে হাসপাতালে নিয়ে বেড়ানোর দৌড়াদৌড়িতে। রোগশয্যায় শেষ কথাটা আর হলো না ওর সাথে। আমাদেরকে কাঁদিয়ে এনাম মেডিক্যাল হাসপাতালে সবাইকে ছেড়ে মীরা চলে গেছে ওপারে- ২০২০ সাল জুনের ১১ তারিখ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দুপুরবেলা।

জীবনে অনেক কিছুই ভুলে থাকা যায়। শৈশব-কৈাশোরের স্মৃতি কেউ ভোলে না কোনোদিন। মীরা তুমি শান্তিতে ঘুমাও, ভালো থেকো পরবারে। মৃত্যু আমাদেরও অবধারিত; দুদিন আগে বা পরে আমারও আসছি তোমার সাথে!

জীবন পাতা ভিন্ন

মেশকাতুন নাহার

তখন জলি স্নাতক সম্মান শ্রেণির ছাত্রী। জীবন কী তাই বুঝতে শিখেনি। বাবা মায়ের আদর স্নেহে বেড়ে উঠেছিল।বাবার চাকরির জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতে হয়েছে। এবং খুবই কঠোর রক্ষণশীলতা আর শাসনে বড় হতে হয়েছিল। একদম ফার্মের মুরগীগুলো যেমন খাঁচায় পালন করা হয় ঠিক তেমনি জলির শৈশব,কৈশোর, যৌবন কেটেছিল।

স্নাতক ভাইবা পরীক্ষা চলছিল। কিছুটা নার্ভাস কাজ করছিল জলির। হঠাৎ স্যার খুব সহজ একটা প্রশ্ন করায় খুশি হলো সে। স্যার প্রশ্ন করলেন, গ্রামের মানুষ কেমন হয়? জলি ঝটপট বইয়ের ভাষায়

বলে দিল, গ্রামের মানুষ খুব সহজ সরল হয়। তাৎক্ষণিক স্যার হেসে দিলেন। অন্য একজন স্যার বললেন, ভিলেজ পলিটিক্স নাম শুনো নাই। তখন জলি আসলেই ভিলেজ পলিটিক্স বুঝেনি।

এখন বয়স চল্লিশ পেরিয়ে জলির শুধু স্যারের সেই প্রশ্নের কথা মনে পড়ে। আর স্যার কেন সেদিন হেসেছিল অনুধাবন করতে পারে। স্যারের সেই প্রশ্নের উত্তর জলি পেয়েছে জীবনের পাতা থেকে।

জলির বিয়ে হলো গ্রামীণ পরিবেশে। সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা পরিবেশ।বিয়ের পর পরই তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হলো মাটির চুলায় রান্না করতে। সে চেষ্টা করতো আগুন কিভাবে জ্বালাতে হয়,কিভাবে লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে হয়। কিন্তু চুলা জ্বালানো তার কাছে অনেক কষ্টের ছিল,জ্বালাতে না পারলে কিংবা কাজ করতে না পারলে শুনতে হতো বিভিন্ন তিরস্কারমূলক কথাবার্তা। প্রায়ই আশেপাশের লোকজন তাকে বলতো কামচোর। এরকম আরও নানান কথাবার্তা জলি তার বাবার বাসায় কখনো শুনেনি। এমনকি গালি দিয়ে কথা শুনাতো হাসি মুখে। রসাত্মক ভঙ্গিতে বিভিন্ন গ্রাম্য শ্লোক শুনতে হতো। জলি কিছু অর্থ বুঝতো কিছু অর্থ বুঝতে

পারতো না। তবে অনুমান করতো তাকে খোঁচা মেরে এ ধরনের কথা বলা হয়েছে।

বাবা চাকরি করতেন বলে সবসময় রুটিন মতো চলাফেরা হতো। খাওয়া দাওয়ার একটা সময় নির্দিষ্ট ছিল। কিছুটা আগেই খাওয়ার অভ্যাস ছিল। আর শশুর বাড়িতে তারা খেতেন অনেক দেরিতে। জলি কাজকর্ম করে অপেক্ষা করতো। একদিন নামাজ শেষে শশুর কে ভাত দিবে বলে ডাক দেয় সে, বাবা খেতে আসেন। পরক্ষণেই একজন নিকট আত্মীয় পিছনে বলতে শুনলো, নিজে খাবে সেইজন্য ডাকে। আবার যদি না ডাক দেওয়া হতো তাহলে শুনতে হতো-নামাজ পড়ে শশুর বসে আছে আর ছেলের বউ ভাত দেয়নি।

মানুষের আচরণ যে এত অদ্ভুত হয় জলি আগে জানে নাই। কারণ সে শুধু বই পড়েছে। বাস্তবিক জ্ঞান খুবই অল্প ছিল। এরূপ নানান অভিজ্ঞতা আজ তার স্মৃতির ঝুলিতে। প্রায়ই আজকাল তার মনে পড়ে বইয়ের দুটো লাইন "পুঁথিগত বিদ্যা আর পর হস্তে ধন,নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন।"

জীবন শিক্ষা অনেক বড় শিক্ষা যা বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না। শিক্ষা কার্যক্রমে বাস্তবিক শিক্ষার প্রসারণ ঘটাতে হবে।

আমরা জলির ঘটনাটি থেকে বুঝতে পারি আমাদের সমাজে যে শিক্ষার প্রচলন আছে তা কেবল সার্টিফিকেট অর্জন, আর জীবিকার্জনের পন্থা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ওয়েলকাম টু জিপি-নাইন সেন্টার

উত্তরের সাহিত্য পাতা

বিজয়

চির-শিশু, চির-কিশোর কবি নজরুল

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অণুগল্পের ডিসেম্বর সংখ্যা

ওরা আমাদের দেবশিশু

উত্তরের সাহিত্য পাতা

কবিরাজ

 
 
সম্পাদক: ইব্রাহীম চৌধুরী | Editor: Ibrahim Chowdhury