বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
নিউইয়র্ক -প্রথম আলো

একাত্তরের গণহত্যা, জাতিসংঘের স্বীকৃতির দাবিতে মন্ট্রিয়লে মানববন্ধন

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২২, ২২:৫৯

সেন্ট ক্যাথরিন সড়কে একাত্তরের গণহত্যার জাতিসংঘের স্বীকৃতির দাবিতে মন্ট্রিয়লে মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত পঞ্চাশোর্ধ কর্মজীবী রোকেয়া বেগম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রমের কাজ। দুপুরে এক ঘণ্টার লাঞ্চ ব্রেক পান তিনি। লাঞ্চ না করেই মানববন্ধনে ছুটে এসেছিলেন রোকেয়া। যে মানববন্ধনটি ১৪ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল মন্ট্রিয়লের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা ম্যাকগিলের সেন্ট ক্যাথরিন সড়কে। এখানের প্রবাসী বাঙালিরা হাতে হাত ধরে মিলিত হয়েছিলেন বাংলাদেশে একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবী নিয়ে। রোকেয়া বেগমের মতো সেখানে এসেছিলেন বহু কর্মজীবী নর-নারী কাজের ব্রেকে অথবা কাজ থেকে ছুটি নিয়ে।

রোকেয়া বলেন, “এসেছি প্রাণের তাগিদে, এসেছি দায়িত্ববোধে তাড়িত হয়ে।”

রোকেয়া তাঁর নিকটাত্মীয় চারজনকে হারিয়েছেন একাত্তরে। পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তাঁর নিরীহ- নিরপরাধ আত্মীয়রা প্রাণ হারান। দীপালী সরকারও এসেছিলেন মানববন্ধনে। তিনি ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। জানালেন, এমন একটি বিষয়ে মানববন্ধন হচ্ছে, সেটিতে অংশ নিতে না পারলে মানসিক কষ্টে থাকতে হতো তাঁকে। দীপালীর বাপ, কাকা, জেঠাসহ পরিবারের নারী শিশুসহ আটজনকে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী লাইন ধরে গুলি করে হত্যা করে। একইদিনে তাঁদের গ্রামের ৬৫ জনকে এলাকার মাঠে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। মানববন্ধনে আসা প্রবাসী কমিউনিটি নেতা দীপক ধর অপু স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হারান তাঁর পরিবারের অনেককে। তিনি বলেন, নিরপরাধ এই শহীদ স্বজনদের জন্যে এখনও বেঁচে থাকা স্বজনদের আকুতি শেষ হয়নি।

কর্মসূচিতে যোগ দেয়া অনেকেই এরকম কষ্টের কথা উচ্চারণ করেন। একাত্তরে পাক বাহিনীর ভয়াবহ নৃশংসতার স্মৃতি রোমন্থন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর এই নির্মম হত্যাকাণ্ড জাতিসংঘ কর্তৃক এখনও গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। মানববন্ধন আয়োজনের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক তাজুল মোহাম্মদ বলেন, আমরা একাত্তর, প্রজন্ম একাত্তর ও বাংলাদেশ সাপোর্ট গ্রুপ —এই তিনটি সংগঠনের উদ্যোগে কর্মসূচিটি পালিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের পঞ্চাশ বছর পার হয়ে গেলেও এটি গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিটি আদায় করা যায়নি। তবে আশার কথা, এবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। তাদের আগামী অধিবেশনের আলোচ্যসূচির শুরুরদিকেই এটি স্থান পেয়েছে। মানববন্ধনে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য্য বলেন, জাতিসংঘ এমনিতেই এটিকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি

দেবে না। এজন্য জাতিসংঘসহ বিশ্বের ক্ষমতাশীল নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে হবে সুস্পষ্টভাবে। দালিলিক প্রমাণ ও নথিপত্রসহ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচারণা ও চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ড. সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে, ঠাণ্ডা মাথায় নৃশংসভাবে নিরীহ ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। এই বীভৎস ঘটনা বিশ্বের অন্যতম গণহত্যা। ড. সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেন ছাড়াও মন্ট্রিয়লে মানববন্ধন আয়োজনের অন্যতম সংগঠক বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব) দিদার আতাউর হোসেন, ড. শোয়েব সাঈদ ও ড. রুমানা নাহিদ সোবহান বলেন, গণহ্ত্যা হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে বিশ্বের সকল স্থান থেকে বাংলাদেশের সকলকে একযোগে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যেতে হবে। এজন্য দেশে ও প্রবাসে আমাদের নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাঁরা ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও কর্মদিবসেও এই

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন যাঁরা তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানান।

একই দাবিতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশিরা মানববন্ধন করে আসছেন। মন্ট্রিয়লে দুপুর ১২টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী ডাইন টাউনের হাডসন বে ভবন সংলগ্ন সড়কটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঋদ্ধ নানা বয়সের বহু সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি নর-নারীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত ছিল। কনকনে শীতের মধ্যেও দেশমাতৃকার টানে উজ্জীবিত হয়ে এতে যেমন যোগ দিয়েছিলেন ৮০ বছর পেরুনো বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অ্যাডভোকেট ফনিন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য্য, তেমনি মা-বাবার সাথে এতে যোগ দিতে এসেছিল আট বছর বয়সের নাহিদও। তাঁদের হাতে কিংবা গলায় ছিল দাবি আদায়ের লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, পোস্টার। উচ্চারণে ছিল দাবি আদায়ের স্লোগান। মূলধারার লোকজনও এসময় বিষয়টি জেনে দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বেগমপাড়াবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ার আহ্বান

উপকূলীয় ১৯ জেলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রকল্প নিতে আগ্রহী

কানাডায় ‘কানাডীয়' নন, এমন যেকোনো ব্যক্তির বাড়ি কেনা নিষিদ্ধ

কানাডা পারে, যুক্তরাষ্ট্র পারে না!

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

দুই বছর কানাডায় বাড়ি কিনতে পারবেন না বেশির ভাগ বিদেশি

বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে বিশ্বসম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে-দেলোয়ার জাহিদ

জীববৈচিত্র্য সম্মেলনের আলোচনায় নেই অগ্রগতি

মন্ট্রিয়লে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের গালা নাইট

 
 
সম্পাদক: ইব্রাহীম চৌধুরী | Editor: Ibrahim Chowdhury