বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২
নিউইয়র্ক -প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:০০

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশী সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দের পাঁচ সদস্যের একটি দল। বর্তমানে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁরা ২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে অব্যাহত এবং ক্রমবর্ধমান সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি টেকসই সমাধানকল্পে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার প্রভাষক ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য, জগন্নাথ হল এলামনাই এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও মহামায়া মন্দিরের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট শ্যামল চক্রবর্তী, ইউনাইটেড হিন্দুজ অব আমেরিকার সিনিওর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ডিরেক্টর ভজন সরকার, যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য

পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও বাংলাদেশে পূজা সমিতির ডিরেক্টর বিষ্ণু গোপ এবং মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, যুক্তরাষ্ট্র যুব ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি ড. দিলীপ নাথ।

দেড় ঘণ্টারও বেশি সভায় প্রতিনিধি দলের প্রত্যেকের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী মনযোগ সহকারে শুনে তাঁদের দাবি ও উদ্বেগের বিষয় নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে মতামত ব্যক্ত করেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন। তিনি প্রতিনিধিদের স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বাংলাদেশে সকল নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচার সব সময়ই হচ্ছে। আইনের হাত থেকে কোনো অপরাধীই রেহাই পাবে না।

এ সময় হেইট ক্রাইম ও স্পীচ, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, পূজায় নিরাপত্তা জোরদার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত যে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করা হয়, তাতে যে সুপারিশনামা রয়েছে সেগুলো হলো—

(১) একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত সংঘটিত সকল সংখ্যালঘু নির্যাতনের শ্বেতপত্র তৈরি করে প্রকাশ করুন এবং অবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জজ সাহাবুদ্দীন কমিশন রিপোর্টে চিহ্নিত সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচার

করে দুষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু। যারা নির্যাতনের শিকার তাদের সার্বিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

(২) ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতে”র মিথ্যা অজুহাতে আটক এবং এই “অপরাধে” শাস্তিপ্রাপ্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে পুলিশকে এই অমানবিক নিষ্ঠুরতা বন্ধ করতে নির্দেশ দিন।

(৩) ইউনেস্কো স্বীকৃত বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দুর্গাপূজা/শারদোৎসবসহ সকল প্রধান পূজা-পার্বণে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন।

(৪) একটি হেইট ক্রাইম ও স্পীচ আইন পাস করে সকল সংখ্যালঘু নির্যাতককে ওই আইনে বিচার করে কঠোর শাস্তি দিন।

(৫) একটি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন এবং একটি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাস।

(৬) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আদলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ফাউন্ডেশন গঠন।

(৭) সংখ্যালঘু নির্যাতক ও এর সহায্যকারীদের নির্বাচনে নমিনেশন দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

(৮) অর্পিত সম্পিত্তি প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ।

(৯) পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন।

(১০) ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বহাল করে দেশের সকল নাগরিকের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

একদশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইমিগ্র্যান্টরা পেয়েছে আমেরিকায় নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অধিকতর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের আহ্বান

শিল্পকলা একাডেমি ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ডা.এস এ মালেকের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃবৃন্দের শোক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

৬ জানুয়ারির তদন্ত কমিটি ক্রিমিন্যাল চার্জের সুপারিশ

ট্রাম্প অর্গানাইজেশন করেছে কর জালিয়াতি

সিনেটে এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটরা

পররাষ্ট্র বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর উক্তি জাতিসংঘ দলিলে সন্নিবেশিত

 
 
সম্পাদক: ইব্রাহীম চৌধুরী | Editor: Ibrahim Chowdhury