সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
নিউইয়র্ক -প্রথম আলো

নাগরিক কমিটির নামে যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের কমিটি গঠনের আহ্বান

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০০

যুক্তরাষ্ট্র নাগরিক কমিটি সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র নাগরিক কমিটি নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। নিউইয়র্কে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে গত ১৩ বছর শেখ হাসিনা সরকারের সকল উন্নয়ন দেশবাসীকে আশার সঞ্চার করেছে বলে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক হিন্দাল কাদির বাপ্পা এবং সদস্যসচিব নুরুল আমিন বাবু ২০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার তথা স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি মাত্র ২২ বছর এদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। এদেশের যাবতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু এদেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়ার সূচনা করেছিলেন আর বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত করছেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯

থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে যত উন্নয়ন, তার বীজ বপন করেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তাঁরা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এদেশের কৃষিতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং বাংলাদেশের কৃষি পিছিয়ে পড়েছিল। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন এবং কৃষিতে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজগুলো পুনরায় শুরু করে মাত্র পাঁচ বছরে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। ১৯৯৬সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা যখন ক্ষমতায় আসেন তখন ২৪ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। পাঁচ বছর পর যখন তিনি ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন তখন ২৬ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত ছিল। তার মানে বাংলাদেশকে তিনি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পেরেছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশ আবার আগের খাদ্য ঘাটতি এবং আমদানি-নির্ভর অবস্থায় ফিরে যেতে সময় নেয়নি। ২০০৯ থেকে ২০২১—এই ১২ বছরে তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে এদেশের কৃষি এগিয়েছে বহুদূর। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৯ হাজার ৫০০

কোটি টাকা যা বছর শেষে আরও ৫০০ কোটি টাকা বাড়তে পারে। সারের দাম যা বিএনপি সরকারের আমলে ৯০ টাকা ছিল, তা আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা ১২ টাকায় নামিয়ে এনেছেন।

তাঁরা বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অর্ধশত, প্রত্যেক জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যার। এরইমধ্যে কয়েকটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অভূতপূর্ব সফলতা অর্জন করেছে। এদেশের তরুণদের প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছেন। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু কন্যা গভীরভাবে মনোযোগ দিয়েছিলেন। ফলে করোনার মতো কঠিন মহামারিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে আছে।

২০০১ সালে শেখ হাসিনার সরকার যখন বিদায় নেয় তখন তিনি ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রেখে যান। পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় লুটপাটের ফলে আবারও জ্বালানি খাত মুখথুবড়ে পড়ে। ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশ আবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে

বর্তমান পর্যন্ত ২০ হাজার ২৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন। বর্তমানে আমাদের ধারণক্ষমতা হচ্ছে ২০ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি, ২০১৪ সালে শান্তি গণতন্ত্র উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি এবং ২০১৮ সালে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীকে নিরলসভাবে সহায়তা করছেন তার সুযোগ্য পুত্র এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মাত্র ১৪ বছরে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে বিশ্বের বিস্ময়, উন্নয়নের রোল মডেল।

তাঁরা বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা যখন ২০০৯ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন তখন বাংলাদেশের জিডিপি ছিল মাত্র ১০০ বিলিয়ন ডলার মাত্র। ১৩ বছরে তা তিনি চারগুন করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি এখন ৪১৬ বিলিয়ন ডলার। বঙ্গবন্ধুকন্যা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ৩০০ থেকে ৪১৫ তে উন্নীত করেন। ২০০৯ সালে যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা

গ্রহণ করেন তখন বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ৬৩৫ ডলার, মাত্র ১৩ বছর সময়ে বর্তমানে তিনি তা ২ হাজার ৫০৩ ডলারে উন্নীত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নাগরিক কমিটি মনে করে যুক্তরাজ্যের নেতাকর্মীর সঙ্গে নেত্রীর যে সাক্ষাৎকারের চিত্র আমরা দেখেছি আমরা মনে প্রাণে আশাবাদী হয়েছিলাম ম্যানহাটন হোটেল লবিতে যুক্তরাজ্যের ন্যায় যুক্তরাষ্ট্রেও মাননীয় নেত্রী আমাদেরকে হাত উঁচিয়ে উৎসাহিত করবেন। যে কোনো কারণেই হোক নেতাকর্মীদের সে আশা পূর্ণ হয়নি। আমরা এখনও আশাবাদী যুক্তরাজ্যের ন্যায় যুক্তরাষ্ট্রেও নেত্রীর সঙ্গে নেতাকর্মীদের সাক্ষাৎ হবে।

যেহেতু যুক্তরাষ্টের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত এই নাগরিক কমিটি। সুতরাং আমরা মনে করি একটি নতুন কমিটিই পারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল সংগঠনে রূপান্তরিত করতে। সর্বপরি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের আকুল আবেদন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একটি নতুন কমিটি গঠন করার জন্য সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পেনসিলভেনিয়ায় বাংলাদেশ প্যারেড ও মেলা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের আরও ১৭০ মিলিয়ন ডলার দেবে: ব্লিঙ্কেন

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির গুঞ্জন সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ প্রার্থী

১৮ বছরে ৩৫ লাখ গৃহহীন লোকের থাকার ব্যবস্থা করেছি: প্রধানমন্ত্রী

স্পেন বিএনপি কর্মিসমাবেশ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ছয় দফা প্রস্তাব

 
 
সম্পাদক: ইব্রাহীম চৌধুরী | Editor: Ibrahim Chowdhury